লেভারেজ এবং মার্জিন কি?

লেভারেজ এবং মার্জিন কি?

যখনই ফরেক্স ট্রেডিং এর কথা আসে, আপনি লেভারেজ এবং মার্জিন এর নাম শুনবেন অবশ্যই। লেভারেজ এবং মার্জিন একে অপরের সাথে সম্পর্কযুক্ত। এই আর্টিকেল এ আমরা এই দুইটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো। 

লেভারেজ কি?

লেভারেজ ফরেক্স ট্রেডিং এ, রিটেইল ট্রেডারদের প্রবেশ এর জন্য সবচেয়ে বেশী ভূমিকা রেখেছে। লেভারেজ এর জন্য একজন ট্রেডার খুবই সামান্য বিনিয়োগ এর মাধ্যমে অনেক বিশাল পরিমাণ বাই বা সেল করতে পারেন। অর্থাৎ লেভারেজ বলতে ফরেক্স এ আমরা যা বুঝি তা হলো প্রফিট এর সম্ভাবনা বৃদ্ধির লক্ষ্যে যে মূলধন ব্রোকার হতে ধার নেয়া হয়। লেভারেজ এর ফলে একই সাথে যেমন প্রফিট এর সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে তেমনিভাবে ঝুঁকির পরিমানও বৃদ্ধি পায়। 

ফরেক্স মার্কেট এ লেভারেজ
লিবার

স্টক মার্কেট এ সর্বোচ্চ লেভারেজ এর পরিমাণ দ্বিগুণ অর্থাৎ আপনি কোন ১০০০ ডলার সমপরিমাণ ট্রেড পরিচালনার জন্য আপনাকে ৫০০ ডলার ডিপোজিট করতে হবে, কিন্তু ফরেক্স মার্কেট এ সে পরিমাণ এমনকি ৫০০ বা কিছু কিছু ব্রোকার তার চেয়েও অধিক লেভারেজ এর অফার করে থাকেন। লেভারেজ সাধারণত অনুপাত আকারে প্রকাশ করা হয় যেমন ১ঃ১০, ১ঃ৫০ বা ১ঃ১০০. যার অর্থ হচ্ছে একজন বিনিয়োগকারী প্রতি ১০ ইউএস ডলার বিনিয়োগ এর মাধ্যমে ১০০,  ৫০০ বা ১০০০ ডলার এর ট্রেড করতে সক্ষম হবে। ফরেক্স মার্কেট এ ট্রেড এর জন্য একসময় প্রচুর পরিমাণ পূজি বিনিয়োগ এর প্রয়োজন হতো যা শুধুমাত্র বড় বড় অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক বা ধনী বিনিয়োগ কারীগন ই করতে সক্ষম হতেন আর তাই তখন ক্ষুদ্র বিনিয়োগ কারীগন ফরেক্স ট্রেডিং করতে পারতেন না। কিন্তু লেভারেজ এর ফলে এখন সকল শ্রেণীর বিনিয়োগ কারীগনই খুবই সামান্য বিনিয়োগ এর মাধ্যমেও ট্রেডিং শুরু করতে পারেন। 

কারেন্সি ট্রেডিং এ একসাথে বেশকিছু কারেন্সি ক্রয় বা বিক্রয় করার প্রয়োজন হয় এই ইউনিটকে বলা হয় লট। প্রত্যেক আদর্শ লট এ কোন একটি নির্দিষ্ট কারেন্সির ১০০,০০০ (ইউনিট) একক থাকে। যদি কোন ট্রেডার ১০০,০০০ ইউনিট এর এই লট কিনতে চায় তাহলে তাকে এই পরিমান টাকাই বিনিয়োগ করা লাগতো উদাহরণ হিসেবে EUR/USD  এএক্সচেঞ্জ রেট যদি হয় ১.২০০০ তাহলে ১০০,০০০ ইউনিট ইয়োরো কিনতে একজন ট্রেডার এর প্রয়োজন হতো ১২০০০০ ইউএস ডলার,  এটা কি বিশাল নয়? 

কিন্তু লেভারেজ সুবিধার ফলে একজন ট্রেডার কেবলমাত্র ১০০০ ইউএস ডলার বিনিয়োগ করে,  ১ঃ১০০ লেভারেজ এর মাধ্যমে ১০০,০০০ ইউনিট এর ১ লট ট্রেড করতে পারেন। প্রতি পিপ মুবমেন্ট এ ১০ ডলার করে প্রফিট হলে ১০০ পিপস মুভমেন্ট ১০০০ ডলার বিনিয়োগ করা একাউন্ট এ ১০০০ ডলার প্রফিট হয়ে টোটাল ফান্ড হয়ে যাবে ২০০০ ইউএস ডলার এই সম্ভাবনাই ফরেক্স ট্রেডিংকে পৃথিবীর সবচেয়ে আকর্ষণীয় পেশা গুলোর একটিতে রুপান্তরিত করেছে। 

একইভাবে যদি নেয়া ট্রেড এর বিপরীতে মার্কেট ১০০ পিপস মুভমেন্ট করে তাহলেও ১০০০ ডলার পূরুটাই হারিয়ে যাবে। তাই ফরেক্স অনেক সময় লেভারেজকে দুই পাশেই শানিত তলোয়ার এর সাথেও তুলনা করা হয়। বিয়িং এ ট্রেডার এ আপনি পরিপূর্ণ গাইড পাবেন কিভাবে এবং কতটুকু লেভারেজ আপনার জন্য মঙ্গলকর। 

মার্জিন কি? 

যখন কোন একজন ট্রেডার তার ব্রোকার কর্তৃক অফার করা ধার এর মাধ্যমে ট্রেড করতে ইচ্ছুক হন তখন তাকে ব্রোকার এর সাথে মূল বিনিয়োগকৃত অর্থের সামান্য কিছু পরিমাণ বিনিয়োগ করা প্রয়োজন হয়, যা মূল ট্রেডিং পজিশন এর তূলনায় খুবই সামান্য। এই সামান্য ডিপোজিটই প্রয়োজন হয় মার্জিন হিসেবে একে “গুড ফেইথ ডিপোজিট”ও বলা হয়। বিনিয়োগকারীগন কোন ধরনের চার্জ ছাড়াই চাইলে যে কোন সময় তার বিনিয়োগকৃত মূলধন উত্তলোন করতে পারেন। মার্জিন সাধারণত দুই ধরনের হয় এক যখন কোন ট্রেড নেয়া হয় তখন যে ফান্ড লকড থাকে, যা ইনিশিয়াল মার্জিন নামে পরিচিত, এবং মেইনটেনেন্স মার্জিন কোন এক্সট্রা ফান্ড যা একটি ব্রোকার এর প্রয়োজন হয় বিনিয়োগকৃত মূলধন এবং ধারকরা মূলধন এর মধ্যে সঠিক অনুপাত ব্যবস্থাপনার জন্য।

গুড ফেইথ ডিপোজিট
লকার

ইনিশিয়াল মার্জিন এর বিস্তারিত 

ফরেক্স ট্রেডিং এ আপনার ট্রেড ওপেন এবং নতুন পজিশন নেয়ার জন্য আপনার পুজির খুবই সামান্য পরিমাণ এমাউন্ট এর প্রয়োজন হয়, এই ক্যাপিটালই মার্জিন নামে পরিচিত। আপনার ব্রোকার, ট্রেড ওপেন রাখার জন্য আপনার একাউন্ট ব্যালেন্স এর সামান্য অংশ লক করে রাখে যতসময় পর্যন্ত আপনার একটি নির্দিষ্ট ট্রেড চলমান থাকে সেফটি ফান্ড হিসেবে, এই নিশ্চয়তার জন্য যে আপনার ট্রেড থেকে সম্ভাব্য যে লস হতে পারে তা যাতে কভার করা যায়।

ইনিশিয়াল মার্জিন, আপনি যদি ১০০,০০০ ইউএস ডলার এর কোন কারেন্সি ক্রয় বা বিক্রয় করতে চান এবং আপনার মূলধন হয় ১০০০০ ইউএস ডলার তাহলে আপনাকে আপনার সম্পূর্ণ মূলধনই লক করে রাখার প্রয়োজন নেই যদি ১ঃ১০০ লেভারেজ এর ব্যবহার করেন তাহলে কেবলমাত্র ১০০০ ডলার লক করলেই চলবে। আপনি বাকি ৯০০০ ডলার দিয়ে চাইলে অন্য ট্রেড নিতে পারবেন। 

এটি অনেকটা ক্রেডিট কার্ড এর মতো আপনার ক্রেডিট কার্ড এর লিমিট যদি হয় ১০০,০০০ টাকা এবং আপনি ইএমআই তে কোন পন্য ক্রয় করলেন যার প্রতি মাসের কিস্তি পরিশোধ করতে হবে ১০,০০০ টাকা তাহলে আপনি এই ১০,০০০ টাকা ছাড়া বাকি যে ৯০,০০০ টাকা রয়েছে তা দিয়ে অন্যান্য কেনাকাটা করতে পারবেন। 

এই অংশ তত সময় পর্যন্ত লক থাকে যত সময় পর্যন্ত ট্রেড চলমান থাকে যখন ট্রেড ক্লোজ হয়ে যায় তখন মার্জিন ফ্রী হয়ে যায় এবং তখন আবারও ব্যবহার করার উপযোগী হয়ে যায়। 

মার্জিন কল এবং মেইনটেনেন্স মার্জিন

যখন কোন একজন ট্রেডার এর নেয়া কোন ট্রেড এর বিপরীতে মার্কেট প্রাইজ যেতে থাকে এবং ট্রেডার এর লস এর পরিমাণ বাড়তে থাকে এবং একটা সময় এমন অবস্থায় আসে যখন তার মূল ফান্ড এর কিছু অংশ হারানোর সম্ভাবনা দেখা যায় এই অবস্থাকেই মার্জিন কল বলা হয়। এটি এমন অবস্থা যখন তার একাউন্ট এর মার্জিন ৫০% এর অধিক নিচে নেমে যায় তখন তাকে প্রয়োজনীয় মার্জিন লেভেল ধরে রাখার জন্য আরও কিছু অতিরিক্ত ফান্ড বিনিয়োগ করা প্রয়োজন হয় যা মেইনটেনেন্স মার্জিন নামে পরিচিত, যাতে করে আপনার বিনিয়োগকৃত মূলধন এবং ধারকরা মূলধন এর ব্রোকার কর্তৃক নির্ধারিত অনুপাত বজায় রাখা যায় এবং যাতে করে আপনাকে অপ্রত্যাশিত লস মেনে নিতে না হয়। এটি ব্রোকার এর জন্য নিশ্চয়তা যা একজন ট্রেডারকে পরিশোধ করতে হয়। 

আপনার মার্জিন হল সেই অর্থ যা আপনি ব্রোকারকে দেন ” ডিপোজিট অফ গুড ফেইথ” হিসেবে। ব্রোকারের সকলের কাছ থেকেই এই মার্জিন নেয়ার প্রয়োজন হয় এবং সকল ফান্ড একসাথে করে ইন্টার-ব্যাংক নেটওয়ার্ক এ বিশাল ভলিউম এর ট্রেড অর্ডার করতে হয়। আপনার প্রফিট এবং লস নির্ভর করে আপনি কত লট এর ট্রেড করছেন তার উপর, আপনার প্রয়োজনীয় মার্জিন এর উপর নির্ভর করে নয়।