একটি দেশের অর্থনৈতিক শক্তিমত্তা বা অবস্থান জানতে সবচেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখে সে দেশের মুদ্রার বৈদেশিক বিনিময় এর হার এর উপর। এর মাধ্যমে একটি দেশের অর্থনৈতিক স্থিরতার চিত্র তুলে ধরে যার ফলেই এই বিষয়টি খুব গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ এবং বিশ্লেষণ করা হয়। একজন ট্রেডার হিসেবে সফল ক্যারিয়ার গঠনে আপনাকেও এই বিষয়ে সচেতন হতে হবে। বিনিময় এর হার সংজ্ঞায়িত হয় " যে হারে এক দেশের মুদ্রা অন্য দেশের মুদ্রার সাথে বিনিময় হয়" যা প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হতে থাকে, এক দেশের সাথে অন্য দেশের সাপ্লাই এবং ডিমান্ড এর উপর ( চাহিদা এবং যোগান)। তাই সফল ট্রেডিং ক্যরিয়ার এর গঠনে মুদ্রার বিনিময় হার জানা অত্যন্ত জরুরী। এই আর্টিকেল এ যে বিষয়গুলো কারেন্সির রেট এর পরিবর্তন এর জন্য ভূমিকা রাখে তা আলোচনা করা হয়েছে। ০১. মুদ্রাস্ফীতির হার মার্কেট এ মুদ্রাস্ফীতি পরিবর্তনের ফলে মুদ্রা বিনিময় হারেরও পরিবর্তন ঘটে। তুলনামূলক স্বল্প মূল্যস্ফীতির হার সহ দেশ এর মুদ্রার মান উন্নত অবস্থায় থাকে । যেখানে মূল্যস্ফীতি কম সেখানে পণ্য ও পরিসেবার মূল্য বৃদ্ধি পায় ধীরে ধীরে। তুলনামূলক কম মুদ্রাস্ফীতির হারের একটি দেশের মুদ্রার মান ক্রমবর্ধমান উন্নতি প্রদর্শন করে, যেখানে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির একটি দেশের ক্ষেত্রে সাধারণত তাদের মুদ্রার অবমূল্যায়ন হয় এবং সাধারণত সুদের হারও থাকে উচ্চতর। ০২. ইন্টারেস্ট রেট ইন্টারেস্ট রেট এর পরিবর্তন কারেন্সির মান এবং বিনিময় হারকে প্রভাবিত করে। বৈদেশিক মুদ্রার হার, ইন্টারেস্ট রেট এবং মুদ্রাস্ফীতি সবগুলোই একে অপরের সাথে সম্পর্কিত। ইন্টারেস্ট রেট এর বৃদ্ধির ফলে একটি দেশের মুদ্রার চাহিদা বৃদ্ধি হয়, কারণ উচ্চ ইন্টারেস্ট রেট এর ফলে ডিপোজিটরগন উচ্চতর হার পেয়ে থাকেন, যার ফলে আরও বিদেশী মূলধন আকৃষ্ট হয়, যা বিনিময় হার বৃদ্ধির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ০৩. একাউন্ট ব্যালেন্স একটি দেশের কারেন্ট একাউন্ট এ প্রতিফলিত হয় বৈদেশিক বিনিয়োগের ফলে যে বাণিজ্য হয় এবং আয় হয় তার ভারসাম্য। এই একাউন্ট রফতানি, আমদানি, ঋণ ইত্যাদিসহ মোট লেনদেন নিয়ে গঠিত হয়, রফতানি থেকে যে আয় হয় তার চেয়ে যদি আমদানিতে অধিক খরচ হয় তাহলেই একে বলে বানিজ্য ঘাটতি।এই ভারসাম্যর উপর দেশের মুদ্রার বিনিময় হার ওঠানামা করে। ০৪. সরকারি ঋন সরকারী ঋন হল পাবলিক ঋন বা কেন্দ্রীয় সরকারের মালিকানাধীন জাতীয় ঋন। সরকারী ঋন যুক্ত একটি দেশ বৈদেশিক মূলধন বিনিয়োগ এর সম্ভাবনা কম থাকে, যার ফলস্বরূপ মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি পায়। বিদেশী বিনিয়োগকারীগন কোন নির্দিষ্ট দেশের সরকারী ঋনের পূর্বাভাস পেলে, ওই দেশের বন্ডগুলি উন্মুক্ত বাজারে বিক্রি করে দেন। ফলস্বরূপ, এর বিনিময় হারের মান হ্রাস পায়। ০৫.টার্মস অফ ট্রেড টার্মস অফ ট্রেড কারেন্ট অ্যাকাউন্ট এবং অর্থ প্রদানের ব্যালেন্স এর সাথে সম্পর্কিত, টার্মস অফ ট্রেড হল, রফতানির মূল্য এবং আমদানি মূল্যর অনুপাত। কোনও দেশের রফতানির মূল্য আমদানি মূল্যের চেয়ে অধিক হারে বাড়লে টার্মস অফ ট্রেড উন্নতি হয়। যার ফলে উচ্চতর রাজস্ব আসে, যার ফলে দেশের মুদ্রার চাহিদা এবং মুদ্রার মান বৃদ্ধি পায়, এর ফলে বিনিময় হার বৃদ্ধি পায়। ০৬. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা একটি দেশের সামগ্রিক পরিবর্তনের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এর প্রদান শর্তগুলোর একটি হল রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। যখন কোন দেশ রাজনৈতিকভাবে স্থির থাকে তার অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়, যার ফলে দেশের ভাবমূর্তি বহির্বিশ্বে উজ্জ্বল হয়। বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়। যার ফলে দেশের কারেন্সির রেট এ ইতিবাচক পরিবর্তন হয়। যার ফলে কারেন্সির বিনিময় হারও বৃদ্ধি পায়। ০৭. অর্থনৈতিক মন্দাভাব যখন কোনও দেশে অর্থনৈতিকমন্দা থাকে, যার ফলে সুদের হার কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, বিদেশী মূলধন অর্জনের সম্ভাবনা হ্রাস পায়। ফলস্বরূপ, উক্ত দেশের মুদ্রা অন্যান্য দেশের তুলনায় দুর্বল হয়ে যায়, সুতরাং বিনিময় হার হ্রাস পায়। ০৮. সম্ভাব্যতার ফলে বৃদ্ধি যদি কোনও দেশের কারেন্সির মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে তবে অদূর ভবিষ্যতে লাভ অর্জনের লক্ষ্যে বিনিয়োগকারীগন সেই মুদ্রায় আরও অধিক বিনিয়োগ করবেন। চাহিদা বৃদ্ধির ফলে মুদ্রার মূল্য বৃদ্ধি পাবে। মুদ্রার মান এই বৃদ্ধি সঙ্গে এক্সচেঞ্জ রেট বৃদ্ধি হয়। তাই সফল কারেন্সি ট্রেডিং এর লক্ষ্যে আপনি যদি একধাপ এগিয়ে থাকতে চান তাহলে আপনাকে অবশ্যই দেশের এই ফান্ডামেন্টাল বিষয়গুলো সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে হবে এবং প্রতিনিয়ত তাদের পরিবর্তন বা পরিবর্তন এর সম্ভাবনাকেও সচেতনভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। বিয়িং এ ট্রেডার আপনার এই প্রয়োজনে পাশে থাকবে।

৮ টি প্রধান ফান্ডামেন্টাল কারন যার ফলে মুদ্রার বৈদেশিক রেট এর পরিবর্তন হয়

একটি দেশের অর্থনৈতিক শক্তিমত্তা বা অবস্থান জানতে সবচেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখে সে দেশের মুদ্রার বৈদেশিক বিনিময় এর হার এর উপর। এর মাধ্যমে একটি দেশের অর্থনৈতিক স্থিরতার চিত্র তুলে ধরে যার ফলেই এই বিষয়টি খুব গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ এবং বিশ্লেষণ করা হয়। একজন ট্রেডার হিসেবে সফল ক্যারিয়ার গঠনে আপনাকেও এই বিষয়ে সচেতন হতে হবে। 

বিনিময় এর হার সংজ্ঞায়িত হয় ” যে হারে এক দেশের মুদ্রা অন্য দেশের মুদ্রার সাথে বিনিময় হয়” যা প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হতে থাকে, এক দেশের সাথে অন্য দেশের সাপ্লাই এবং ডিমান্ড এর উপর ( চাহিদা এবং যোগান)। তাই সফল ট্রেডিং ক্যরিয়ার এর গঠনে মুদ্রার বিনিময় হার জানা অত্যন্ত জরুরী। 

এই আর্টিকেল এ যে বিষয়গুলো কারেন্সির রেট এর পরিবর্তন এর জন্য ভূমিকা রাখে তা আলোচনা করা হয়েছে।  

০১. মুদ্রাস্ফীতির হার  

মার্কেট এ মুদ্রাস্ফীতি পরিবর্তনের ফলে মুদ্রা বিনিময় হারেরও পরিবর্তন ঘটে। তুলনামূলক স্বল্প মূল্যস্ফীতির হার সহ দেশ এর মুদ্রার মান উন্নত অবস্থায় থাকে । যেখানে মূল্যস্ফীতি কম সেখানে  পণ্য ও পরিসেবার মূল্য বৃদ্ধি পায় ধীরে ধীরে। তুলনামূলক কম মুদ্রাস্ফীতির হারের একটি দেশের মুদ্রার মান ক্রমবর্ধমান উন্নতি প্রদর্শন করে, যেখানে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির একটি দেশের ক্ষেত্রে সাধারণত তাদের মুদ্রার অবমূল্যায়ন হয় এবং সাধারণত সুদের হারও থাকে উচ্চতর। 

০২. ইন্টারেস্ট রেট 

ইন্টারেস্ট রেট এর পরিবর্তন কারেন্সির মান এবং বিনিময় হারকে প্রভাবিত করে। বৈদেশিক মুদ্রার হার, ইন্টারেস্ট রেট এবং মুদ্রাস্ফীতি সবগুলোই একে অপরের সাথে সম্পর্কিত। ইন্টারেস্ট রেট এর বৃদ্ধির ফলে একটি দেশের মুদ্রার চাহিদা বৃদ্ধি হয়, কারণ উচ্চ ইন্টারেস্ট রেট এর ফলে ডিপোজিটরগন উচ্চতর হার পেয়ে থাকেন, যার ফলে আরও বিদেশী মূলধন আকৃষ্ট হয়, যা বিনিময় হার বৃদ্ধির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। 

০৩. একাউন্ট ব্যালেন্স 

একটি দেশের কারেন্ট একাউন্ট এ প্রতিফলিত হয় বৈদেশিক বিনিয়োগের ফলে যে বাণিজ্য হয় এবং আয় হয় তার ভারসাম্য। এই একাউন্ট রফতানি, আমদানি, ঋণ ইত্যাদিসহ মোট লেনদেন নিয়ে গঠিত হয়, রফতানি থেকে যে আয় হয় তার চেয়ে যদি আমদানিতে অধিক খরচ হয় তাহলেই একে বলে বানিজ্য ঘাটতি।এই ভারসাম্যর উপর দেশের মুদ্রার বিনিময় হার ওঠানামা করে।

০৪. সরকারি ঋন

সরকারী ঋন হল পাবলিক ঋন বা কেন্দ্রীয় সরকারের মালিকানাধীন জাতীয় ঋন। সরকারী ঋন যুক্ত একটি দেশ বৈদেশিক মূলধন বিনিয়োগ এর সম্ভাবনা কম থাকে, যার ফলস্বরূপ মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি পায়। বিদেশী বিনিয়োগকারীগন কোন নির্দিষ্ট দেশের সরকারী ঋনের পূর্বাভাস পেলে, ওই দেশের বন্ডগুলি উন্মুক্ত বাজারে বিক্রি করে দেন। ফলস্বরূপ, এর বিনিময় হারের মান হ্রাস পায়।

০৫.টার্মস অফ ট্রেড 

টার্মস অফ ট্রেড কারেন্ট অ্যাকাউন্ট এবং অর্থ প্রদানের ব্যালেন্স এর সাথে সম্পর্কিত, টার্মস অফ ট্রেড হল, রফতানির মূল্য এবং আমদানি মূল্যর অনুপাত। কোনও দেশের রফতানির মূল্য আমদানি মূল্যের চেয়ে অধিক হারে বাড়লে টার্মস অফ ট্রেড উন্নতি হয়। যার ফলে উচ্চতর রাজস্ব আসে, যার ফলে দেশের মুদ্রার চাহিদা এবং মুদ্রার মান বৃদ্ধি পায়, এর ফলে বিনিময় হার বৃদ্ধি পায়।

০৬. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা একটি দেশের সামগ্রিক পরিবর্তনের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এর প্রদান শর্তগুলোর একটি হল রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। যখন কোন দেশ রাজনৈতিকভাবে স্থির থাকে তার অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়, যার ফলে দেশের ভাবমূর্তি বহির্বিশ্বে উজ্জ্বল হয়। বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়। যার ফলে দেশের কারেন্সির রেট এ ইতিবাচক পরিবর্তন হয়। যার ফলে কারেন্সির বিনিময় হারও বৃদ্ধি পায়।

০৭. অর্থনৈতিক মন্দাভাব 

যখন কোনও দেশে অর্থনৈতিকমন্দা থাকে, যার ফলে সুদের হার কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, বিদেশী মূলধন অর্জনের সম্ভাবনা হ্রাস পায়। ফলস্বরূপ, উক্ত দেশের মুদ্রা অন্যান্য দেশের তুলনায় দুর্বল হয়ে যায়, সুতরাং বিনিময় হার হ্রাস পায়।

০৮. সম্ভাব্যতার ফলে বৃদ্ধি 

যদি কোনও দেশের কারেন্সির মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে তবে অদূর ভবিষ্যতে লাভ অর্জনের লক্ষ্যে বিনিয়োগকারীগন সেই মুদ্রায় আরও অধিক বিনিয়োগ করবেন। চাহিদা বৃদ্ধির ফলে মুদ্রার মূল্য বৃদ্ধি পাবে। মুদ্রার মান এই বৃদ্ধি সঙ্গে এক্সচেঞ্জ রেট বৃদ্ধি হয়।

তাই সফল কারেন্সি ট্রেডিং এর লক্ষ্যে আপনি যদি একধাপ এগিয়ে থাকতে চান তাহলে আপনাকে অবশ্যই দেশের এই ফান্ডামেন্টাল বিষয়গুলো সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে হবে এবং প্রতিনিয়ত তাদের পরিবর্তন বা পরিবর্তন এর সম্ভাবনাকেও সচেতনভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। বিয়িং এ ট্রেডার আপনার এই প্রয়োজনে পাশে থাকবে।