বোলিংগার ব্যান্ড'স কি এবং এর ব্যবহার

বোলিংগার ব্যান্ড’স কি এবং এর ব্যবহার

বোলিংগার ব্যান্ড’স অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি ইন্ডিকেটর যা সকল ধরনের অর্থনৈতিক মার্কেট এর টেকনিক্যাল এনালাইসিস এ সমাধিক ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ১৯৮০ দশকে, জন বোলিংগার, যিনি মার্কেট এর সাথে দীর্ঘদিন যাবত জড়িত একজন প্রযুক্তিবিদ, এই ইন্ডিকেটরটি তৈরি করেন। যা করতে যেয়ে তিনি মুবিং এভারেজ এর সাথে আরও দুটি ট্রেডিং ব্যন্ড এর ব্যবহার করেন, যার একটি মুবিং এভারেজ এর উপরে অবস্থান করে এবং অন্যটি নিচে। 

জন বোলিংগার

এর ক্যালকুলেশন বেশ সহজ, ২০-পিরিয়ড সিম্পল মুবিং এভারেজ এর মূল ভিত্তি, এই ২০ পিরিয়ড এর ডাটা বিশ্লেষণ এর মাধ্যমে এর আদর্শ বিচ্যুতির হিসেব করা হয় এরপর তা দ্বিগুণ করা হয়। যার সাথে ২০ -পিরিয়ড মুবিং এভারেজ এর যোগ এর মাধ্যমে যে ব্যন্ড পাওয়া যায় তার অবস্থান হয় উপরে অর্থাৎ বোলিংগার ব্যন্ড এর আপার ব্যন্ড এবং ২০ -পিরিয়ড মুবিং এভারেজ এর থেকে বিয়োগ এর মাধ্যমে যে ব্যন্ড পাওয়া যায় তার অবস্থান হয় নিচে অর্থাৎ বোলিংগার ব্যন্ড এর লোয়ার ব্যন্ড। 

স্ট্যান্ডার্ড ডেভিএশন (আদর্শ বিচ্যুতি) হল একটি গানিতিক সূত্র যা অস্থিরতা পরিমাপ করে, এটি প্রদর্শন করে কোন শেয়ার/ কারেন্সি পেয়ার কিভাবে এবং কতটা এর মূল মূল্য থেকে তারতম্য হতে পারে। দামের অস্থিরতার পরিমাপ এর মাধ্যমে বোলিংগার ব্যন্ড’স মার্কেট অবস্থার সাথে তাদের সামঞ্জস্য করে। যা এটিকে ট্রেডারগন এর কাছে করেছে বেশ প্রয়োজনীয়,একজন ট্রেডার এর প্রাইজ সংক্রান্ত যে তথ্যগুলো সম্পর্কে জানা প্রয়োজন তার প্রায় সমস্তই এই ব্যন্ড এর মধ্যে পেতে পারে। 

বোলিংগার ব্যন্ড’স কিভাবে কাজ করে 

বোলিংগার ব্যন্ড’স খুবই জনপ্রিয় পদ্ধতি। অনেক ট্রেডারগন বিশ্বাস করেন প্রাইজ যতই আপারব্যন্ড এর কাছাকাছি যেতে থাকে মার্কেট ততই ওভারবট অবস্থায় থাকে। এবং একইভাবে প্রাইজ যতই লোয়ারব্যন্ড এর কাছাকাছি যেতে থাকে মার্কেট ততই ওভারসোল্ড অবস্থায় থাকে। জন বোলিংগার এই ব্যন্ডগুলো ব্যবহার করার জন্য ২২ রুলস সেট করেছেন যা অনুসরণ করা প্রয়োজন। 

নিচের চিত্রে চার্টে বোলিংগার ব্যন্ড’স এর আদর্শ পরিমাপে একটি কারেন্সি পেয়ার এ  প্রতিস্থাপন করা হল। যেহেতু আদর্শ বিচ্যুতি মার্কেট প্রাইজ এর ভোলাটিলিটির পরিমাপ করে, তাই যখন মার্কেট অধিক ভোলাটাইল থাকে তখন ব্যন্ড’স গুলো প্রসারিত হয়, এবং যখন মার্কেট প্রশান্ত থাকে তখন ব্যন্ড’স গুলো সংকুচিত হয়। 

বোলিংগার ব্যন্ড’স

সংকোচন 

সংকোচন বোলিংগার ব্যন্ড’স এর মূল ধারণা। যখন ব্যন্ড’স গুলো একসাথে কাছাকাছি আসে, মুবিং এভারেজকে সংকীর্ণ করে, এটিকে সংকোচন বলা হয়। এই সংকোচন দ্বারা মার্কেট এর সুস্তির অবস্থা বোঝায় এবং এটি ট্রেডারগন এর কাছে সম্ভাব্য ইংগিত প্রদান করে যে মার্কেট যে কোন সময় আবার ভোলাটাইল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে যা সম্ভাব্য সম্ভাবনাময় ট্রেড এর সুযোগ তৈরি করতে পারে বলে মনে করেন। বিপরীতভাবে যখন ব্যন্ড’স গুলো প্রসারিত হতে থাকে, ততই ভোলাটিলিটি কমার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পেতে থাকে যা ট্রেড থেকে এক্সিট এর সংকেত প্রদান করে। তবে মনে রাখা প্রয়োজন এই অবস্থাগুলো কোন ট্রেডিং সিগন্যাল নয়। এই ব্যন্ড’সগুলো কোন পরিবর্তন কখন হতে পারে বা কতসময় পর্যন্ত সংকোচন বা প্রসারিত অবস্থা থাকতে পারে তার কোন সঠিক সময় নেই, এবং প্রাইজ কখন কোন দিকে পরিবর্তিত হবে তারও কোন নির্দিষ্ট ধারণা এটি প্রদান করতে সক্ষম নয়। 

সংকোচন

ব্রেকআউট 

যদিও অধিকাংশ সময়ই প্রাইজ এই ব্যন্ড’স গুলোর মধ্যেই উঠানামা করতে থাকে। কিন্তু কিছু কিছু সময় এগুলো ব্রেকআউটও সংগঠিত হয়, আপারব্যন্ড বা লোয়ারব্যন্ড যে ব্যন্ডই হোক না কেন তা অনেক বড় ঘটনা। একইভাবে এক্ষেত্রেও মনে রাখতে হবে ব্রেকআউট কোন সিগন্যাল নয়। অধিকাংশ ট্রেডারই যে ভুল করে থাকে তা হল প্রাইজ যখনই কোন ব্যন্ড এ স্পর্শ করে বা ব্যন্ড ছেড়ে বের হয়ে যায় এটিকে বাই বা সেল এর সুযোগ মনে করে। ব্রেকআউট ভবিষ্যৎ প্রাইজ এর মুবমেন্ট এর কোন নিশ্চিত সংকেত প্রদান করে না। 

অন্যান্য ইন্ডিকেটর এর সাথে সম্মিলিতভাবে এর ব্যবহার 

বোলিংগার ব্যন্ড’স এককভাবে স্বতন্ত্র ট্রেডিং পদ্ধতি নয়। এগুলো ট্রেডারদের প্রাইজ ভোলাটিলিটি সম্পর্কে ধারণা প্রদান করতে পারে এমন একটি ইন্ডিকেটর। জন বোলিংগার পরামর্শ দেন, এর সাথে সম্পর্ক নেই এমন আরও দুই বা তিনটি ইন্ডিকেটর এর ব্যবহার এর জন্য যা মার্কেট সম্পর্কে অন্যান্য আরও কিছু তথ্য প্রদান করে। তিনি মনে করেন ভিন্ন ভিন্ন তথ্য প্রদান করে এমন ইন্ডিকেটর ব্যবহার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তার পছন্দের কিছু ইন্ডিকেটর এর মধ্যে রয়েছে এমএসিডি ( ম্যাকডি), অন-ব্যালেন্স ভলিউম, এবং আরএসআই।