ট্রেডিং শুরু করার পুর্বে করনীয়

ফরেক্স/শেয়ার মার্কেট এ ট্রেডিং শুরু করার পুর্বে যে ১৩ টি প্রশ্নের উত্তর আপনার জানা প্রয়োজন

আমাদের করা প্রতিটি কাজেরই কোন না কোন লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য থাকে। যদি কোন কাজ করতে যেয়ে কারণ স্পষ্ট না হয় তাহলে লক্ষ্য পুরন সম্ভব নয়, এমনকি ঐ কাজে পরিপূর্ন গতি লাভ ও সম্ভব নয়। তাই জীবনে যে কোন কর্মশুরু করার পূর্বে প্রথমে যে বিষয়গুলো স্পষ্ট হতে হবে তা হল আমি কেন এই কাজটি করবো। যখন কেন আমরা স্পষ্ট হবো, কিভাবে করবো তাও স্পষ্ট হবে। যা আমাদের শুধুমাত্র কাজেই নয় জীবনেও ব্যাপক পরিবর্তন সাধন করবে। 

তেমনিভাবে ট্রেডিং শুরু করার পুর্বে আমাদের স্পষ্ট হতে হবে কেন আমরা ট্রেড করবো এবং তা স্পষ্টভাবে ডায়েরীতে লিখে ফেলতে হবে। তাহলে যখনই ট্রেড করতে যেয়ে পথ হারিয়ে ফেলবো এই কারণগুলো আমাদের সঠিকপথে আসতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। আমি এই প্রশ্নগুলো করে শুরু করেছি আপনিও করতে পারেন আপনার মত করে। 

১। আমি কি ধনী হওয়ার জন্য ট্রেড করছি?

২। নাকি একটু ভালো থাকার জন্য  ট্রেড করছি?

৩। নাকি সময়ের স্বাধীনতার জন্য ট্রেড করছি?

৪। ট্রেড এর সর্ব্বোচ্চ সুবিধা পেতে যে পরিমাণ বিনিয়োগ প্রয়োজন তা করতে কি আমি প্রস্তুত?

৫। ট্রেড শিখতে হলে যে সময় এবং মনোনিবেশ প্রয়োজন আমি কি তা করছি বা করতে পারবো?

এই প্রশ্নগুলোর সঠিক উত্তর আপনার ডায়েরিতে লিখে রাখুন, তারপর সকল উত্তর মূল্যায়ন করুন। তারপর শুরু করুন ট্রেড অনেক দীর্ঘ সময়ের প্রফেশন এবং এই মার্কেট এর পরিধিও বিশাল ( শেয়ার/কারেন্সি বা ফরেক্স ট্রেডিং) সুতরাং আপনি যে কোন সময়ই শুরু করতে পারেন। কিন্তু ইমোশনাল হয়ে ট্রেড শুরু করবেন না। এটিই ধ্বংসের সবচেয়ে বড়  কারণ একজন সম্ভাবনাময় ট্রেডার এর জন্য। 

নিয়ম মান্য করার মানসিকতাঃ- 

আপনার ব্যক্তিগত জীবন এবং ট্রেডিং দুটিকে আলাদা করার কোন সুযোগ নেই। আপনি যেমন আপনার ব্যক্তি জীবনে, ট্রেডিং টেবিলেও আপনি একই ব্যবহার করবেন এটিই স্বাভাবিক। যেমন আপনি যদি ব্যক্তিজীবনে এমন স্বভাবের হন যে বিপদ আসলে মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে  পড়েন, তাহলে ট্রেডিং একাউন্ট এ লস দেখলেও আপনার মানসিক দূর্বলতা চলে আসার সম্ভাবনা অধিক। তাই ব্যক্তি জীবনে যদি আপনি নিয়ম তৈরি করেন এবং ভঙ্গ করেন এমন হয় তাহলে কোন সফলতার জন্য হ্যাভিট তৈরি করতে চান তা সফলভাবে করতে সক্ষম হবেন না। যা ব্যক্তি জীবনে এবং ট্রেডিং ক্যারিয়ার উভয়ের জন্যই ব্যর্থতার প্রধান কারণ। 

আমার একজন বন্ধু যার কাজে যেতে প্রতিদিনই দেরি হয়ে যায়। যদিও তার বস তাকে তাড়াতাড়ি ডাকে সে সময়মতো যেয়ে উপস্থিত হতে পারে না। যার ফলে সে বারবার ওয়ার্নিং পাওয়ার পরও তার এই অভ্যাস এর পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়না। যার ফলে গত বছর সে ৩ টি চাকুরী পরিবর্তন করেছে এবং বর্তমান চাকুরিতেও  ওয়ার্নিং চলছে সে এই ভাবে করে পরিবর্তন করতে করতে সে এখন ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। তার একটি বদঅভ্যাস তার জীবনকে ব্যর্থ করার জন্য যথেষ্ট হতে পারে। তেমনি অনেক ছোট ছোট নিয়ম মেনে চলার মাধ্যমেই সফল জীবন এবং ট্রেডিং ক্যরিয়ার গঠন করা সম্ভব। 

বর্তমানে আপনার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য গুলো কি অবস্থানে রয়েছে? 

১. আপনি কি যতটা অসৎ তার চেয়ে অধিক সৎ?  

আপনি কি সবসময় সত্য কথা বলেন? অথবা আপনার কি এমন স্বভাব রয়েছে, একটি ঘটনাকে বেশ অতিরঞ্জিত করে উপস্থাপন করা?

আমার এক আত্মীয়, যিনি একটি ঘটনাকে যতটা তার চেয়ে অনেক বাড়িয়ে রং লাগিয়ে তারপর বলতে পছন্দ করেন। যদিও তিনি এই বিষয়ে সচেতন, কারণ তাকে ধরিয়ে দিতে গেলে তিনি বলেন রং লাগিয়ে/অতিরঞ্জিত বাড়িয়ে না বললে নাকি গল্প মজার হয়না।

আমার মধ্যেও এ স্বভাব রয়েছে কিছুটা বাড়িয়ে বলা, মিথ্যা না হলেও যখন একজন বিক্রয়কর্মী হিসেবে কিছু বিক্রি করতে যেতাম তখন কিছুটা বাড়িয়ে বলতে বলতে তা একটা সময় অভ্যাস এই পরিনত হয়ে যায়। কিন্তু আমার স্ত্রী আমার একজন ভালো বন্ধুও তিনি অতিরঞ্জিত কোন বিষয় বলাকে পছন্দ না করায় আমি প্রথম ধাক্কা খাই, তিনি আমাকে বুঝিয়ে বলতে থাকেন, এই ঘটনাটি যেভাবে ঘটেনি তেমনভাবে বলাও একভাবে মিথ্যাকে সমর্থন করা, যা কোনভাবেই ভালো অভ্যাস নয়। 

সত্য বলা বেশ জরুরী, এটি আমাদের জীবনে অনেক ভূল করা থেকে দূরে থাকতে সহায়তা করে, সত্য বললে মানসিকভাবে অনেক জটিলতা থেকে মুক্ত থাকতে পারি এবং এর উপর ভিত্তি করে তৈরি হওয়া সম্পর্ক, অর্জন, সবকিছুই আনন্দদায়ক এবং প্রয়োজনীয় সত্য বলার অভ্যাস আমাদের ট্রেডিং ক্যারিয়ার এ ও অনেক ভূল থেকে রক্ষা করবে বলে আশা করি। 

যদি অতিরঞ্জিত করার অভ্যাস থাকে তাহলে আপনি ট্রেডিং নিয়ে ও বাড়িয়ে বলতে শুরু করবেন, যা হয়নি তাও বলা শুরু করবেন। যারা অতিরঞ্জিত করতে পছন্দ করে তারা নিজের মনের জগতে এক ধরনের ঘটনা কল্পনা করে যা সত্য নাও হতে পারে এবং তাই তারা বর্ণনা করে, কিন্তু এই স্বভাব এর ফলে মার্কেট এ ও যা ঘটছে তা না স্বীকার করে যদি নিজের মনের মতো অতিরঞ্জিত করে ভাবেন, তাহলে মার্কেট এই ভূল এর জন্য পানিশড করতে ভূল করবে না। আপনার সফলতা নিয়ে নিজের কাছে এবং অন্যের কাছে মিথ্যা বলতে শুরু করবেন।

এই অভ্যাস আপনার নিজের সাথে মিথ্যা বলতেও প্ররোচিত করবে যদিও আপনি ইমোশনাল ও বাজে ট্রেড করেন । নিজের কাছে নিজেই বাড়িয়ে বলবেন যে “আমি তো রুলস এর মধ্যেই আছি”। যদি এই অভ্যাস থাকে তাহলে যখন অন্যদের ট্রেডিং সফলতা নিয়ে প্রশ্ন করবে এবং দেখতে চাইবে বা জানতে চাইবে আপনি তখন প্রচন্ড বিব্রতকর অবস্থায় পড়বেন। তাই সত্য বলার অভ্যাস আপনাকে এই সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে। 

২. আপনি কি অঙ্গীকার করলে রাখেন? নাকি অঙ্গীকার ভঙ্গ করেন? 

আপনি কি অঙ্গীকার করলে রাখেন? নাকি অঙ্গীকার ভঙ্গ করেন?
আপনি কি অঙ্গীকার রক্ষাকারী

যখন আপনার কথাই দলিল এটিই হচ্ছে সত্যতার প্রদান মানদণ্ড। যদি আপনার কথা দলিল এর মতো না হয় তাহলেই আপনি একজন অঙ্গীকার ভঙ্গকারী। কোন ব্যক্তিই অঙ্গীকার ভঙ্গকারীকে পছন্দ করেন না, আপনি অঙ্গীকার রক্ষাকারি না হলে জীবনে সঠিক মানুষকে আকর্ষণ করতে পারবেন না।

যখনই আপনি আপনার এবং অন্যের সাথে কোন অঙ্গীকার করেন তা রাখতে চেষ্টা করবেন বা আপনাকে রাখতে হবে। আপনার এই অভ্যাস ট্রেডিং টেবিল এ ও চলে আসবে যার ফলে আপনার তৈরি করা নিয়মাবলীগুলোই আপনি মানতে পারবেন না, যা আপনার একাউন্ট এবং ট্রেডিং ক্যারিয়ার এর জন্য ধ্বংসাত্মক।

ধরুন আপনি যদি আপনার সাথে  অঙ্গীকার করলেন যে আপনি ষ্টপ লস ব্যতীত কোন ট্রেড করবেন না, কিন্তু কোন ক্রিটিক্যাল অবস্থায় আপনি মাত্র একবার সেটা না মানার ফলেও আপনার একাউন্ট এর ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। আমি এমন অনেক ট্রেডার এর উদাহরণ জানি যারা একই সমস্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এই দূর্ভাগ্যে থেকে নিজেকে রক্ষায়, অঙ্গীকার রক্ষা করুন সেটা জীবনের যে কোন ক্ষেত্রেই হোক না কেন। যা জীবনের সাথে সাথে ট্রেডিং ক্যারিয়ার এর জন্যও অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।  যে কোন ব্যবসা বা কাজ শুরু করার পূর্বে কিছু পূর্বপ্রস্তুতি প্রয়োজন হয় যা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আমরা নিতে চাই না, যা একজন মানুষকে তার পছন্দের জীবন যাপন করতে প্রধান বাধা হয়ে উঠে এবং সেই জীবনযাপন এ বাধ্য করে যা সে করতে চায়নি। আপনি যদি কোন যুদ্ধক্ষেত্রে যেয়ে বলেন আপনি প্রস্তুতি নেন নি, আপনার কাছে ঢাল, অস্ত্র নেই তাহলে যেমন হবে তেমনই হয় জীবন এর ক্ষেত্রেও। ওই অপ্রস্তুত যোদ্ধার মতো, যুদ্ধ শুরু করার পূর্বেই পরাজয় মেনে নিয়ে পালানোর পথ খুঁজে বেড়ায়, তেমনিভাবে জীবনেও, পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাবে কোনভাবে বেচে থাকাকে মেনে নিতে হয়।

প্রচন্ড সম্ভাবনাময়,ট্রেডিং শুরু করার পূর্বে সফলতার জন্যও আমাদের প্রস্তুতি প্রয়োজন। নিজস্ব নিয়মাবলিগুলো যা আমাদের ট্রেড নেয়ার পূর্বে, আমাদের মনের ঢাল এর মতো। আমাদের মনকেই সফলতার জন্য প্রোগ্রাম করতে হবে সচেতনভাবে। তাই ট্রেড শুরু করার পূর্বে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিয়ে আপনি আপনার মনের অবস্থা, বা আপনার সম্পর্কে জেনে নিন। যা আমাদের ট্রেডিং ক্যারিয়ার গঠনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করি। 

৩. আপনি কি নিয়ম মেনে চলেন, নাকি নিয়ম ভাঙ্গেন?

শিভ খেরা তার বই ” ফ্রিডম ইজ নট ফ্রি” বইতে এটি স্পষ্ট করেছেন যে স্বাধীনতার মানে এই নয় যে আমরা কোন নিয়ম মানবো না। আপনি যদি গাড়ি ড্রাইভ করেন আর নিয়ম মেনে না চলেন তা হলে যেমন হবে তেমনিভাবে আমাদের জীবনের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটবে। তাই স্বাধীনতা মানে যা খুশি তাই করা নয় বরঞ্চ দীর্ঘ সময়ের স্বাধীনতার জন্য আমাদের নিয়ম করে সেই মতো ই চলতে হবে।

আমাদের জীবনে শুরু থেকেই অনেক নিয়ম রয়েছে, পারিবারিক, সামাজিক, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ক্ষেত্রে,সম্পর্ক গুলোর বিষয়ে আমাদের অনেকগুলো নিয়ম মেনে চলতে হয় যা অনুসরণ করতে অসম্মত হলে তা জীবনের জন্য ঝুঁকির, নানা রকম পারিপার্শ্বিক সমস্যার উদ্ভব এবং অনেক সময় জীবনে পিছিয়ে পড়ার কারন হয়।

অনেক ক্ষেত্রে নিয়ম ভাঙ্গার ফলে সৃষ্টি হয় সামাজিক বিশৃংঙ্খলা। 

সঠিকভাবে ট্রেড শিখতে এবং সফলভাবে ট্রেড এর জন্য অবশ্যই নির্দিষ্ট নিয়ম মানতে হবে। এই নিয়ম গুলো না মানলে শুধুমাত্র ট্রেডিং একাউন্টই নয় তা ট্রেডিং ক্যারিয়ার এর জন্যও ক্ষতিকর। অনেক সময় তার প্রভাব আমাদের জীবনেও পড়ে।

৪. আপনি কি ভালো শ্রোতা, নাকি শুনতে পছন্দ করেন না? 

আপনি কি ভালো শ্রোতা, নাকি শুনতে পছন্দ করেন না?
আপনি কি ভালো শ্রোতা

মানুষ স্বভাবতই বলতে পছন্দ করে, তাই যিনি শুনতে পছন্দ করেন তার সবচেয়ে বড় রিওয়ার্ড হচ্ছে তিনি খুব সহজেই অনেকের কাছে প্রিয় হতে পারেন। মানুষকে মনোযোগ দিয়ে শুনলে অনেক জ্ঞান অর্জন করা যায়, কোন বিষয় পর্যবেক্ষণ করার সু্যোগ পাওয়া যায়। যা ট্রেড এর জন্য প্রয়োজনীয়, প্রতিটি ক্যান্ডেলই আমাদের কিছু গল্প বলে যা শুধুমাত্র মনোযোগ দিয়ে শুনলেই বুঝা যায়।

মার্কেট এর এই গল্পের অনেক সময় পুনরাবৃত্তি ঘটে যা সফল ট্রেডাররা শুনতে পান কারণ তারা মনোযোগী শ্রোতা। আপনি যদি মার্কেট কে না শুনে তার বলায় কথায় বাধা দেন এবং আপনার কথা /ধারণা তার উপর চাপিয়ে দেন সবচেয়ে বড় ক্ষতি আপনারই হবে। তাই মনোযোগী শ্রোতা হওয়া ট্রেড এর জন্য প্রয়োজন। 

৫. আপনি কি কথা বলার পুর্বেই ভাবেন নাকি বলার পড়ে ভাবেন? 

এটি এমন একটি অভ্যাস যা আমাদের অনেক ভূল কথা বলার কারন হয় এবং এমন অনেক ভূল  সংশোধন করাও সম্ভব নয়, যেমন একবার বেল বাজালে তা আবার কখনো ফিরানো সম্ভব কি ? তেমনিভাবে একবার বলা কথা আর ফিরানো সম্ভব নয়, কিন্তু ভুল কথা বলা বা না ভেবে কথা বললে একজন মানুষকে প্রায়ই গুরুত্বহীন ব্যক্তি হিসেবেও উপেক্ষা করা হয়। কারন না ভেবে বলা কথায় ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে বেশ, যা একজন মানুষ সম্পর্কে আমাদের যে ধারণা প্রদান করা তা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নেতিবাচক এবং এই অভ্যাস আমাদের সম্পর্কগুলোর উপরও প্রভাব ফেলে। 

তাই না ভেবে কথা বললে ট্রেডিং এর জন্যও বেশ ক্ষতিকর। মার্কেট যখন পর্যবেক্ষণ করি তখন আমাদের মধ্যে অনেক কথোপকথন চলমান থাকে, যদি সেই কথোপকথন এর উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা না করা যায়। তাহলে মার্কেট যা বলতে চায় তা সঠিকভাবে না শুনেই আপনার বলা কথা তার উপর প্রতিষ্ঠা করতে চেষ্টা করবেন, আর এই লক্ষ্যে যখনই ট্রেডিং সিদ্ধান্ত নিতে যাবেন তখনই ভূল হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায় যা আপনার একাউন্ট এর ক্ষতি সাধন করবে। 

 ৬. আপনি কি কাজ করার পুর্বে চিন্তা করেন নাকি কাজ করে চিন্তা করেন?

আমাদের সচেতন মন এবং অবচেতন মন আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ এবং একই সময়ে আমাদের সবচেয়ে বড় লিয়াবিলিটিসও । আমাদের সচেতন মন, আমরা যা দেখি এবং শুনি তা সূক্ষভাবে বিবেচনা করে, পর্যবেক্ষণ করে এবং ক্যাটাগরিওয়াইস আলাদা করে। যদি কোন একশন করা/ নেয়া প্রয়োজন হয় তাহলে মন তার মতো করে একশন নেয়, যেমন আমাদের চোখ যখন ক্ষতিকর কোন কিছু দেখে আমাদের মন সাবধান হয়ে যায় এবং একশন নেয়ার পরিমাণ কমিয়ে দেয়। যখনই আমাদের সচেতন মন কোন একশন নেয় তখন সাবকনসাস মাইন্ড সেই ঘটনার জন্য, এই একই একশন কে ভবিষ্যৎ এর জন্য রেকর্ড করে রাখে। তাই ভবিষ্যৎ এ আমাদের শুধুমাত্র সেই ভাবনাটি ভাবতে হবে যা আমরা ভেবেছিলাম পূর্বে এবং আমাদের সাবকনসাস মাইন্ড অটোমেটিকলি ওই একই একশন নেয় যা পূর্বের নেয়া এই ঘটনায়, ওই একশন যা নেয়া হয়েছিল। এভাবেই অভ্যাস গঠিত হয়। 

কোন কিছু নিয়ে একবার ভাবলে এবং একবার করলে এটাই একটি স্বভাব এর সূচনা করে। এটি নিয়ে তিনবার ভাবুন এবং করুন, তাহলেই আপনি একটি  অটোমেটিক অভ্যাস তৈরি করেছেন, ভাল বা মন্দ। যখন আপনি ভাল বা খারাপ অভ্যাস তৈরি করেন আমাদের সাবকনসাস মাইন্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে সে কাজ কোন ভাবনা ছাড়াই তা আবার করতে সক্ষম হয়। এটি একইসাথে ভাল এবং মন্দ সংবাদ আমাদের জন্য। 

যদি আপনি এমন কোন আন-প্রোডাক্টিভ কাজের অভ্যাস গঠন করেন, তবে তা বাজে অভ্যাস হিসেবে বিবেচিত হয়। আপনি তাহলে অচেতনভাবেই অযোগ্য। এই সময় মন স্বয়ংক্রিয়ভাবে ধ্বংসাত্মক বিষয়গুলো পরিচালনা করে এবং তখনই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। আপনাকে পুনরায় সচেতন হতে হবে যে এগুলো আপনার বাজে অভ্যাস যা পরিবর্তন করা প্রয়োজন এদের মাধ্যমে আপনি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। যখন আপনি উপলব্ধি করতে পারবেন আপনার বাজে অভ্যাসগুলো, তখনই কেবল আপনি নতুন কোন দক্ষতা অর্জন করে বা নতুন একটি অভ্যাস তৈরি করতে পারবেন যা দ্বারা অকার্যকর এই অভ্যাস বদলে কার্যকর অভ্যাস গঠন করতে পারেন যা সফলতার পক্ষে সবচেয়ে বড় পদক্ষেপগুলোর একটি, যখন আমরা কোন নতুন স্কিল অর্জন করি/ শিখি আমাদের একেবারে প্রথম থেকে সচেতনভাবে প্রতিটি পদক্ষেপ নিতে হয়। এই একশন নেয়ার জন্য যে ভাবনার প্রক্রিয়া এবং তার বাস্তবায়নের জন্য যে পদক্ষেপ আমরা নিয়ে থাকি এই প্রক্রিয়াকেই বলে “সচেতনে যোগ্যতা”।

যখন আমরা সচেতনভাবে এই প্রক্রিয়ার পুনরাবৃত্তির জন্য নিয়মিতভাবে অনুসরন করি, যখন যখন এর প্রয়োজন হয়। তখন আমাদের অবচেতন মনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পূর্বের যে প্রক্রিয়ার রেকর্ড রয়েছে, যা আমাদের  কর্মের ফলে অভ্যাস এ পরিণত হয়েছে তার সাথে রিপ্লেস হয়ে যায়। আমাদের অবচেতন মন চিন্তা করে না এটি কেবল এবং কেবলমাত্র পূর্বের রেকর্ডকৃত কোন অভ্যাস কে বাস্তবায়ন করে, ঐ কর্মের যা চিন্তার সাথে মিলে যায়। আপনি যত বেশী করে কোন কাজ সম্পাদন করবেন তা ভালো হোক বা মন্দ ততই অবচেতনভাবেই সেই অভ্যাস স্বয়ংক্রিয় হয়ে উঠবে। 

আপনি যদি কোন একটি বা একাধিক বাজে অভ্যাস দ্বারা বন্দি হয়ে যান যাতে করে আপনার বদঅভ্যাসগুলোই বারবার পুনরাবৃত্তি হতে থাকে তাহলে আপনি” অচেতনভাবেই অযোগ্য”। একইভাবে যদি আপনি আপনার ভালো অভ্যাসগুলোতে নিজেকে স্থির করে ফেলেন তাহলে অচেতনভাবেই সেই ভালো অভ্যাসগুলো বাস্তবায়িত হতে থাকবে তাহলে আপনি ” অচেতনভাবেই যোগ্য”। 

সফলতার পথ হচ্ছে প্রথমে আমরা থাকি “অচেতনভাবেই অযোগ্য” তারপর আমরা যে প্রক্রিয়ায় মধ্যে দিয়ে যাই তা হল ” সচেতনভাবে অযোগ্য” এই অবস্থা থেকে আমরা যে অবস্থায় যাই তা হল ” সচেতনভাবে যোগ্য” এবং তারপর সেই মাহেন্দ্রক্ষন যখন আমরা পৌঁছে যাই কাঙ্গিত লক্ষ্যে যা হলো ” অচেতনভাবে যোগ্যতা”

এই অবস্থায় যেতে যেয়ে আমাদের বিশোধন প্রয়োজন হয় সকল বদঅভ্যাসগুলোর পরিবর্তে যাতে করে ভালো অভ্যাসগুলো আমাদের অবচেতন মনে রেকর্ড হয়, এবং এর ফলে এই ভালো অভ্যাসগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে, ফলপ্রসূ, কার্যকরভাবে পরিচালিত হতে পারে। এটা অনেকটা গাড়ি চালানোর মতো/বা যে কোন দক্ষতা অর্জন এর মতই। 

যখন আপনি প্রথম গাড়ি চালানো শিখেছিলেন বা এই শেখার প্রক্রিয়ায়। যখন আপনি প্রথমবার গাড়ির সিটে বসেছিলেন তখন আপনার শেখা সকল কিছুই সচেতনভাবে মনে করে করে করা লাগছিল। যা করতে ১৫ মিনিট এর বেশী সময় হয়তো লেগেছিল কারণ আপনাকে সকল কিছু  সচেতনভাবেই করা লাগছিল যা আপনি শিখার সময় করেছিলেন। আপনি এই সময়ে ছিলেন সচেতনভাবে যোগ্য। এই নতুন সময় যখন আপনি গাড়ি চালাতে যেয়ে কোন মামলা নিতে হয় বা দূর্ঘটনা ঘটে তবে তা হবে “অচেতনে অযোগ্যতা”। এরপর আপনি সচেতনভাবে লক্ষ্য রেখেছেন যেন কোন নিয়ম বহির্ভূত কাজ না হয় বা কোন অনাকাঙ্ক্ষিত দূর্ঘটনা যেন না ঘটে যা আপনাকে “সচেতনভাবে যোগ্য” ড্রাইভারএ রূপান্তরিত করেছে। এখন আপনি যখন গাড়ি কোন মামলা নিতে হয় না বা দূর্ঘটনাও হয় না, আপনি এই অবস্থায় থাকলে, আপনি এখন “অচেতনভাবেই  যোগ্য” একজন চালক। এর অর্থ হলো আপনি সফলভাবে অচেতনভাবে  যোগ্য ড্রাইভিং এর অভ্যাস গড়ে তুলেছেন। এখন হয়তো আপনার তিন সেকেন্ড লাগে “পূল আউট অব ড্রাইভওয়ে”। এখন আপনি ড্রাইভ করতে করতে ফোনও রিসিভ করতে পারেন, পাশে কারও সাথে কথা বলতে পারেন, এক হাতে কফি নিয়েও ড্রাইভ করতে পারেন। সম্ভবত আপনি বুঝতে পেরেছেন আমাদের মন কতটা শক্তিশালী এবং এটি কতটা গুরুত্বপূর্ন কোন কাজ করার পুর্বে তা সম্পর্কে ভাবনা কতটা জরুরী বিষয়। 

যখন আমরা ট্রেড করবো, অবশ্যই  অবশ্যই  আমাদের ভাবতে হবে প্রথমে এবং তারপর শুরু করতে হবে। যদি আপনি সঠিকভাবে না ভেবেই ট্রেড দিয়ে ফেলেন এবং ভূল হয়ে যায় তবে তারও রেকর্ড আমাদের অবচেতন মনে থেকে যায়, তা আপনি মনে রাখতে চান বা না চান আপনার অবচেতন মন তা জমা রাখে এবং অচেতনভাবেই তৈরি হয় বাজে ট্রেডিং অভ্যাসগুলোর। যা আমাদের ট্রেডিং একাউন্ট এবং ক্যারিয়ার উভয়েরই ধ্বংসের জন্য দায়ী। সফল ট্রেডারগন ট্রেড দেয়ার পূর্বে শুধুমাত্র চিন্তাই করেন না সঠিক পরিকল্পনা করেন এবং ট্রেড করেন যাতে করে তাদের এই চিন্তা এবং পরিকল্পনার উপরেই তাদের সফল ট্রেডিং অভ্যাস গঠিত হয় যা তাদের সফলতার প্রধান কারণ।

ব্যর্থতা ক্যান্সার এর মতো, যদি আপনি ক্যান্সারকে কেটে ফেলে চিকিৎসা না করেন তবে যেমন আপনার জীবনের জন্য ঝুকিপূর্ন হতে পারে। তেমনিভাবে যদি বদভ্যাসগুলো শুরু থেকেই বাদ দেয়া না যায় তবে সফলতা অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। তাই ক্যান্সার কোষ যেভাবে কেটে ফেলে ক্যান্সার এর চিকিৎসা করা হয় তেমনিভাবে শুরু থেকেই ভালো অভ্যাস গঠন এর মাধ্যমেই সফলতার পথ রচনা করতে হয়। 

আপনি যখন ট্রেড করতে শুরু করবেন, আপনাকে ট্রেড এর সাথে জড়িত সকল বিষয়গুলোই আমলে নিতে হবে, এবং তাদের উপর পর্যালোচনার ভিত্তিতেই যেন হয় আপনার প্রতিটি ট্রেড এটি যদি আপনি বারবার করতে থাকেন তাহলে তা এক সময় আপনার ভালো অভ্যাসএ পরিণত হবে যা সফল ট্রেডিং ক্যরিয়ার তৈরিতে সহায়ক। মার্কেট ভূল এবং ইমোশনাল ট্রেডারদের জন্য কোন মায়া প্রদর্শন করে না, তাই এই ধরনের ট্রেড এর অভ্যাস আপনাকে ভোগাবে। তাই ট্রেড করার পূর্বে বা কাজ করার পূর্বে ভাবুন। 

৭. আপনি কি আপনার আবেগ নিয়ন্ত্রণ করেন নাকি আপনার আবেগ আপনাকে নিয়ন্ত্রণ করে?

৭. আপনি কি আপনার আবেগ নিয়ন্ত্রণ করেন নাকি আপনার আবেগ আপনাকে নিয়ন্ত্রণ করে?
আপনি আপনার আবেগ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হন

অধিকাংশ অর্থনৈতিকভাবে সফল ব্যক্তিগণ, তাদের বিজনেস বিষয়ে অত্যন্ত নিয়ন্ত্রীত সিদ্বান্ত নেয়, যেখানে তারা আবেগকে প্রশয় দেন না। আপনি বিশ্বাস করুন অথবা না, সফল ব্যবসায়ের মানেই হলো, বা সফল বিজনেস আবেগহীন সিদ্বান্ত নেয়া এবং তার বাস্তবায়ন ব্যাতিরেকে আর কিছুই নয়, এটিই হল অর্থনৈতিক সেন্স যা অর্থনৈতিক ধারনার জন্ম দেয়। 

এর সাথে আমরা আবেগহীনভাবে গাণিতিক সমস্যাগুলোর সমাধানকে যুক্ত করতে পারি। পাঁচ আর পাঁচ মিলে দশই হবে আপনি যতই ১১ বা ৯ করতে চান তা সম্ভব নয়। 

অসফল ব্যবসায়ী মানে আর কিছুই নয় শুধুমাত্র কিছু আবেগপূর্ন/ আবেগী সিদ্বান্ত নেয়া এবং বাস্তবায়ন করা যা কোনভাবেই অর্থনৈতিক সেন্স তৈরি করেনা। উদাহরণস্বরূপ হতে পারে এমন কর্মচারীদের রেখে দেয়া যারা কোম্পানিতে আশানূরূপ ফল প্রদান করতে পারে, এই কারনে যে তারা তাদের পছন্দ করে। এটি কখনোই ভালো সিদ্বান্ত হতে পারে না , এটি একটি বাজে সিদ্বান্ত যার সূত্রপাত হয় ইমোশন থেকে। 

আমাদের জীবনে ভালো এবং খারাপ উভয় রকমের ইমোশনই রয়েছে। ভাল এবং চমৎকার ইমোশন আমাদের জীবনের সৌন্দর্যের জন্য সহায়ক, বৃদ্ধির জন্য সহায়ক, যেখানে বেড ইমোশন আমাদের জীবনের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু ব্যবসা আলাদা বিষয় , যেখানে আপনি কোনভাবেই আবেগকে প্রশ্রয় দিতে পারবেন না, আপনার সকল ব্যবসায়িক সিদ্বান্ত হবে ইমোশন বিজড়িত আপনার ব্যবসায়ির সিদ্বান্তের প্রক্রিয়াটি হওয়া উচিত, শিক্ষিত, যৌক্তিক এবং আবেগ বিজড়িত। যে কোন অর্থনৈতিক সিদ্বান্ত যা নেগেটিভ আবেগ দ্বারা বা আবেগের কারনে নেয়া হয় তা আমাদের যতটা সহায়তা করবে তার থেকে অনেক বেশী আঘাত করবে। 

যখন ট্রেডিং টেবিলএ বসবেন বা ট্রেড শুরু করবেন, আপনি যতই আপনার সিদ্বান্তগুলোকে, আবেগ দ্বারা তাড়িত হয়ে নিবেন আপনি ততই টাকা হারাবেন। একইভাবে আপনি যে ট্রেডিং সিদ্বান্ত নেয়ার পিছনে যৌক্তিক এবং এডুকেশন এর উপর আস্থা রাখবেন ততই আপনি অর্থ কামাবেন বা সম্ভাবনা অর্জন করবেন। 

ইমোশনাল সংযুক্তি ছাড়া, আপনি যখন আপনার সমস্যা এবং চ্যালেঞ্জগুলো সম্পর্কে ভাববেন, তা আপনাকে দীর্ঘ সময়ে হ্যাপিনেস এবং সফলতার জন্য ফোকাস এ সহায়তা করবে। খারাপ বিষয়গুলো আমাদের জীবনে আসতেই পারে এবং কখনো কখনো আমাদের তাদের উপর কোন নিয়ন্ত্রণই থাকে না। বাস্তব সত্য হলো আমাদের ভবিষ্যৎ এর উপর আমাদের কোন নিয়ন্ত্রণই থাকে না। আমাদের কাজ এই মুহূর্তে যে সময়ে আমি বসে আছি, এখন আমি যে কাজ করতে পারি তার নিয়ন্ত্রণ নেয়া। এবং এই সময়ে আমি আমার যে অবস্থান রয়েছে তা কি আমরা আবেগ দ্বারা প্রাভাবিত হয়ে নিচ্ছি নাকি আবেগ বিজড়িতভাবে নিচ্ছি এ প্রশ্নের উত্তর জানা। সফল ট্রেডারগন তাদের আবেগ এর উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন যাতে করে তাদের সিদ্বান্তগুলো হয় আবেগ বিজড়িত। যেখানে অসফল ব্যক্তিগণ তাদের ট্রেডিং এর সিদ্বান্তগুলো নেনই আবেগ দ্বারা প্রভাবিত হয়ে।

একজন সফল ট্রেডার এর একদিনের ট্রেডিং 

০১। সকালে রুটিন থাকবে কি করতে হবে ট্রেড শুরুর পূর্বেই   

০২। তার ওয়াচলিস্ট এর গঠন 

০৩। ট্রেড প্লান ওরগানাইজ করা

০৪। পরিকল্পনা অনুযায়ী ট্রেড করা

০৫।  পরিকল্পনা অনুযায়ী ট্রেড দেয়া 

০৬। জার্নালিং এবং রিফ্লেকশন।

০৮. আপনি কি কোন ঘটনায় ইতিবাচকভাবে সাড়া দেন নাকি নেতিবাচকভাবে সাড়া দেন?

আমরা পরিকল্পনা করি এবং তা বাস্তবায়নের জন্য কাজ করি। তারপরও এমন হয় অনেক সময় যখন কোন কিছুই সঠিকভাবে কাজ করে না, এই সময় কি আপনি নিজেকে হারিয়ে ফেলেন? যা ব্যর্থ ব্যক্তিগন করে থাকেন?

যেখানে সফল ব্যক্তিগণ তাদের সাথে ঘটে যাওয়া নেতিবাচক ঘটনার মধ্যে থেকেও ইতিবাচক বিষয় খুঁজে নেয়, যা তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ এর পাথেয় হয় এবং এগিয়ে রাখে। যদি আপনার ইমোশন দ্বারা আপনি নিয়ন্ত্রিত হন তাহলে আপনি যতটা ইতিবাচকভাবে সাড়া দিবেন তার চেয়ে অনেক বেশী সাড়া দিবেন নেতিবাচকভাবে যার ফলস্বরূপ আপনাকে মেনে নিতে হতে পারে একটা অসুখী জীবন, দরিদ্র এবং মধ্যম অবস্থায় কাটিয়ে দিতে হতে পারে বাকি জীবনটা। নিয়ম হল, যত নেতিবাচক ঘটনা আমাদের জীবনে ঘটে তার অধিকাংশই হয় আমাদের দ্বারা অথবা এমন সকল ঘটনা দ্বারা, যেগুলো আমাদের সংকেত দিচ্ছিল কিন্তু আমরা তা প্রত্যক্ষ না করে অবজ্ঞা করেছি তার ফলস্বরূপ। নিজের কৃতকর্মের দ্বায়িত্বভার নিজের বলে মেনে নেয়া এতটাই কষ্টসাপেক্ষ যে আমরা প্রায়ই এর দ্বায়ভার অন্যের উপর চাপিয়ে দিয়ে স্বস্থি খুঁজি বা স্বাচ্ছন্দ্যে বোধ করি। যেখানে আমাদের উচিৎ ঘটনার কারন অনুসন্ধান বা পর্যবেক্ষণ এবং এমন একটি পদ্বতির আবিষ্কার করা যাতে করে এই একই অবস্থায় আবার না পতিত হতে হয়।

আপনি যদি আপনার জীবনের এই প্রতিক্রিয়াশীল নেতিবাচক অভ্যাস ট্রেডিং এর সময় নিয়ে আসেন, তাহলে মার্কেট জানে কোন বাটন এ পুশ করলে আপনাকে আবেগপূর্ন করা যাবে। তখন মার্কেট আমাদের ইমোশন নিয়ে খেলা করবে। আর আপনি একের পর এক ইমোশনাল ট্রেড নিয়ে নার্ভাস হয়ে যাবেন এবং হারিয়ে যাবেন। এই সকল ভূল ট্রেড এর ফলে একসময় ভয় পেয়ে যাবেন, যা আপনাকে সঠিক ট্রেড করতে বাধা প্রদান করবে। 

তার চেয়ে এই সময়গুলোতে যদি আপনি মাথা ঠাণ্ডা রেখে যে ভূল আপনি করেছেন তার সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করেন, তাহলে তা পরবর্তী কোন সিদ্বান্ত নিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। যেখানে মার্কেট এর সাথে প্রতিশোধ পরায়ন হয়ে ট্রেড করলে এটি আপনার সকল টাকা হারানোর কারন হতে পারে। সেখানে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়াশীল ট্রেডিং আপনাকে পরবর্তী পদক্ষেপ কি হতে পারে এবং পরবর্তী যে সুযোগ আপনার দরজায় কড়া নাড়বে তা দেখাতে পারে।

৯. আপনার ইগো কি গঠনমূলক নাকি ধ্বংসাত্মক? আপনি কি বিনীত নাকি অধিক অহংকারী?

৯. আপনার ইগো কি গঠনমূলক নাকি ধ্বংসাত্মক? আপনি কি বিনীত নাকি অধিক অহংকারী?
আপনার ইগো কি গঠনমূলক নাকি নয়

আপনি আপনার সিদ্বান্ত নিতে যেয়ে কি অহংকার এবং ইগোর উপর নির্ভর করেন। নাকি লজিক এর উপর নির্ভর করে? আপনি যদি আপনার জীবনে ধ্বংসাত্মক ইগো দ্বারা পরিচালিত হন তাহলে আপনি কি ঐ লোক থেকে ভিন্ন, যিনি এইমাত্র একটি বড় নৌকা কিনলো এবং ক্রেতার ম্যানুয়াল এর প্রথম লাইনটিই পড়লো না ” যাইহোক ঝড় এড়িয়ে চলুন”, আপনি যখন আপনার নৌকা ভাসাবেন ঝড়কে আপনার খুজতে হবে না, ঝড়ই প্রাকৃতিকভাবে আপনাকে খুঁজে নিবে। ” একজন ধ্বংসাত্মক ইগো সম্পন্ন মানুষ ঝড় খোঁজা বা ঝড়ের মধ্যে দৌড়ে ভেড়ানো বই আর কিছুই নয়। যিনি একবার ঝড় থেকে মুক্ত হয়েই আবারও ঝড়ের কবলেই পড়েন। গঠনমূলক ইগো আপনাকে লক্ষ্যে স্থির রাখবে, জীবনের নৌকা ভাসাতে যেয়ে, যেভাবে ঝড় থেকে আপনি নিজেকে রক্ষা করে এগিয়ে যেতে পারবেন সেই দিকে। গঠনমূলক ইগোর একজন মানুষ বিশ্বাস করেন যে মন প্যারাসুট এর মতো, এটি তখনই কাজ করে যখন এটি খোলা থাকে। যাদের ধ্বংসাত্মক ইগো রয়েছে তারা ভাবেন বা ভাব ধরেন এমন যেন তারা সবই জানেন। যখন ট্রেডিং টেবিল ধ্বংসাত্মক ইগো আসে তখন মার্কেট দূর্ভাগ্যজনকভাবে অপদস্ত করে। 

গঠনমূলক ইগো নতুন করে শেখার প্রেরণা দেয়, আবার নিজের ভূল সংশোধন করে সঠিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখে। 

১০. আপনি কি আপনার জীবন এ অধিক ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন নাকি নেতিবাচক?

 এই প্রশ্নের উপর আপনার জীবনে আপনি কতটা সুখী তা নির্ভর করে, আপনার এই প্রশ্নের জবাব এর উপর অনেকটাই নির্ভর করে। অধিকাংশ ঘটনারই দুটি পাশ থাকে ইতিবাচক এবং নেতিবাচক। আপনি কি ইতিবাচক ঘটনারও নেতিবাচক দিক খুঁজে বেড়ান নাকি নেতিবাচক ঘটনাও ইতিবাচক দেখেন? এটি একটি সূত্র “ল অব এট্রাকশন” এর মাধ্যমে স্পষ্ট উপলব্ধি করা যায়। 

যারা জীবনের সাথে ঘটে যাওয়া যে কোন ঘটনার ইতিবাচক বিষয় এর দিকে লক্ষ্য করে, তাদের সুখে থাকা কোন বিষয় দ্বারা নিয়ন্ত্রিত না হয়ে তাদের উপরই সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে। যারা নেতিবাচক বিষয় গুলো দিকে লক্ষ্য করেন এতে তাদের তেমন কোন পরিবর্তন হয় না বরঞ্চ মানসিকভাবে দুর্বল করে, অসুখী মানসিকতার কারন হয় এর সাথে যে সূত্রটি জড়িত তা হল “ল অব এট্রাকশন”।

“ল অব এট্রাকশন” হলো, আমরা যা, আমরা তাই আকর্ষণ করি। বস্তুর কোন ক্ষমতা নেই যে তা কার কাছে যাবে বা যাবে না তা চিন্তা করা। ইমোশনগুলোর কোন ক্ষমতা নেই যে আমাদের প্রভাবিত করবে যদি আমরা তাদের প্রবেশ এর সুযোগ না দিই। আমরা যখন ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করি তখন যত ইতিবাচক বস্তু, ইমোশন, মানুষ আমাদের কাছে আসে।  একইভাবে যখন নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করি তখন নেতিবাচক বিষয় এবং বস্তগুলো আমাদের জীবনে আসে। 

এই সূত্র আমাদের জীবনে সিরিয়াস প্রভাব ফেলে কারন যখন ইতিবাচক মনোভাব এর ফলে ইতিবাচক বস্তু এবং মানুষ আমাদের পাশে থাকে তখন আমরা সহজেই ইতিবাচক কাজগুলো করতে পারি যা আমাদের জীবনকে করে সহজ, সুন্দর ও কার্যকরী। যেখানে নেতিবাচক মানসিকতা আমাদের জীবনকে করে হতাশাজনক।

হতাশাবাদী এবং আশাবাদী এর মধ্যে যে পার্থক্য তা হলো, আশাবাদী ব্যক্তিগন বিশ্বাসকরেন যে, সকল প্রশ্নেরই উত্তর আছে এবং সকল সমস্যারই সমাধান রয়েছে। যেখানে হতাশাবাদী ব্যক্তিগন বিশ্বাস করেন যে অধিকাংশ প্রশ্নেরই উত্তর হয় না, এবং অধিকাংশ সমস্যারই সমাধান সম্ভব নয়।

এই মানসিকতার ফলে হতাশাবাদী ব্যক্তিগন এর জীবনে সম্ভাবনা, সফলতা এবং সুখ সকল কিছুতেই সীমাবদ্ধতা চলে আসে। অন্যদিকে আশাবাদী ব্যক্তিগন “ল অব এট্রাকশন” এর মাধ্যমে ইতিবাচক ফলাফল এর সম্ভাবনা বাড়ায় এবং ইতিবাচক ঘটনাবলী ঘটতে থাকে।

একজন ব্যক্তি শুধুমাত্র নেতিবাচক মানসিকতা থেকে ইতিবাচক দিকে পরিবর্তন এর মাধ্যমে একজন তার জীবনের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনায় আমূল পরিবর্তন করতে পারে।

নেগেটিভ মানসিকতা পোষণ করা ব্যক্তিগন প্রতিনিয়ত তাদের দোষ এবং হতাশার জন্য অন্য কাউকে দোষারোপ করতে থাকে, এবং তারা অন্যের ভূল এর সাজা পাচ্ছে এই মানসিকতায় বেচে থাকে।

পজিটিভ মানসিকতা পোষণ করা ব্যক্তিগন তাদের কৃতকর্মের জন্য তারা দ্বায়িত্বভার কাধে তুলে নেন এবং সমস্যাগুলোর সমাধানে কি কি পদক্ষেপ নেয়া যায় যাতে করে ভবিষ্যৎ এ এই সমস্যাগুলো থেকে সমাধান করা যায় তা নিয়ে পরিকল্পনা করে।

সফল ট্রেডার হতে হলে আপনাকে নেগেটিভ মনোভাব ত্যাগ করে ইতিবাচক মানসিকতা পোষণ করতে হবে, যা ট্রেডিং এ ইতিবাচক প্রভাব এর সূচনা করে। আর নেতিবাচক মানসিকতা আমাদের জীবনের সাথে সাথে ট্রেডিং একাউন্ট এ প্রভাব ফেলে।

 ১১. আপনি আপনার ভুলগুলোকে ভয় পান, নাকি তাদেরকে বোঝার চেষ্টা করেন এবং তাদের থেকে শিখেন?

ভূল সবাই করে, কিন্তু শুধুমাত্র জ্ঞানী ব্যক্তিগণই ভূল থেকে শিক্ষা গ্রহন করে। সেটিই সত্যিকার অর্থে ভূল যা থেকে আমরা তেমন কিছুই শিখি না। ভূল আমাদের শিখায় যে আমাদের কোন ক্ষেত্রে উন্নতি ঘটানো প্রয়োজন। ভূল ছাড়া আমরা কিভাবে জানব যে আমাদের কি শিখতে হবে বা কোন দূর্বলতার উপর আমাদের কাজ করা প্রয়োজন। এমন অবস্থা এড়িয়ে চলা যেখানে আমরা হয়তো ভূল করতে পারি, এটাই সবচেয়ে বড় ভূল। ভূল হবে বলে কাজ না করলে জীবনে অগ্রগতি সম্ভব নয়। তাই সাহসী মনোভাব তো সেটাই যেখানে আপনি বেড়িয়ে পড়েন এবং ঐ অবস্থাকে মোকাবেলা করেন, যেখানে আপনি জানেন যে ভূল হতেই পারে, ভূল বা সঠিক যাই হোক কিছু সময় সিদ্বান্ত না নেয়াই অনেক বড় ভূল এর সূচনা। 

যারা সফল তারা ব্যর্থদের চেয়ে বা যারা চেষ্টাই করেননা তাদের চেয়ে ভূল কম করে এমন নয় , অনেক ক্ষেত্রে বরঞ্চ বেশীই করে। কিন্তু তারা ভূল করে স্বীকার করে নেয়, ভূল এর মধ্যে না থেকে তাকে হাল্কা করে দেখেতে পারে, তা থেকে শিক্ষা গ্রহন করে, যা তাদের ক্রমাগত, শক্তিশালী করে এবং সফলতার পথে নিয়ে যায়। যখন আমরা ভূল করি তা আমাদের ভূল এবং উদ্বেগ এর কারন হয়। 

হতাশাবাদীগন এমনভাবে বাঁচে, যেখানে কোন ভূল করাই যাবে না, কারন ভূল সমস্যার সৃষ্টি করে এবং তাদের ধারণা মতে সকল সমস্যার সমাধান নেই, যা তাদের মধ্যে ভয় এর জন্ম দেয় যা তাদের কর্মশক্তিকে দূর্বল করে। যেখানে আশাবাদীগণ ভূল এর পর ভূল করেও থেমে যায় না, যা তাদেরকে করে তোলে শক্তিশালী।

যখন আশাবাদীগণ কোন ভূল করেই ফেলে তারা তা নিয়ে কাজ করে আরও দৃঢ়ভাবে এবং এই বিশ্বাস বুকে নিয়ে যে এটা সমধান যোগ্য এবং ধারণা করুন তারা কি দেখতে পায়? জি অবশ্যই তারা কিছু সময় বা দিন পর এর সমাধান খুঁজে পায় । যার ফলে ভয় এবং উদ্বেগ চলে যায় বা বিদায় নেয়। 

যেমন যদি কোন পথে আমরা হোঁচট খাই তারপরই কি আমরা সে পথে হাটা বন্ধ করে দিব, নাকি ওই কারনের সমাধান করে পরবর্তী সময় থেকে আরও সাবধানতা অবলম্বন করবো? যে কোন ভূল এরই সমাধান রয়েছে এবং তা থেকে আমরা শিখতে পারি যতক্ষন পর্যন্ত আপনি মনে করেন। তাই যখনই আপনার করা কোন ভূল থেকে যখন কোন সমস্যা তৈরি হয়, আমাদের সেই সাহস অর্জন করতে হবে ততক্ষন পর্যন্ত এটিকে ছেড়ে দেয়া যাবে না যতক্ষন পর্যন্ত কোন সমাধান বের করতে না পারি। আপনি যতবার এমন ঘটনার সমাধান এর লক্ষ্যে কাজ করতে থাকবেন অনেক বেশী ইমোশনাল না হয়ে আপনার একটি চমৎকার অভ্যাস তৈরি হবে যেখানে সমাধান আপনার কাছে আরও অধিকতর সহজ হয়ে যাবে। এটা মনে রাখা প্রয়োজন ব্যর্থতা তেমন বড় সমস্যাই নয়, সমস্যা হল সেটাই যখন আমরা ওই ব্যর্থতা ভূল বা সমস্যার সমাধানের চেষ্টায় রত না হয়ে তথ্যের উপর অন্য কোন বিষয় বা বস্তুর উপর দোষারোপ করি। ব্যর্থতা পড়তে থাকার মধ্যে নয়, ব্যর্থতা থেমে যাওয়ার মধ্যে।    

ভূল থেকে শিক্ষা সফলতার জন্য অত্যন্ত জরুরী বিষয়, ভুল থেকে শিক্ষা গ্রহন না করলে এবং এই শিক্ষা ট্রেডিং টেবিল এ নিয়ে আসলে তা আমাদের একাউন্ট এর মারাত্মক ক্ষতির কারন হবে। আমাদের অবচেতন মন এ থেকে যা গ্রহন করে তাতে করে আমাদের প্রচণ্ড বাজে অভ্যাস এর সূচনা হবে, যা থেকে আমরা টাকা হারাবো। তাই ট্রেড শুরু করার পূর্বে আপনার ভূলগুলোর দিকে লক্ষ্য রেখে তাদের ভয় না পেয়ে তার থেকে তৈরি সমস্যার সমাধান এর লক্ষ্যে মানসিকতা তৈরি করতে হবে, যা আমাদের সফল জীবন এবং ট্রেডিং ক্যরিয়্যার গঠনের পথে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

১২. আপনি কি আপনার যা আছে তাতে ফোকাস করেন নাকি যা হারিয়ে গিয়েছে তাতে?

 আমরা যখন ভূল করতে থাকি জীবন চলার পথে এতে আমরা অনেক সময়ই হারিয়ে ফেলি আমাদের অর্জিত অনেক বস্তু, আমাদের কাছের মানুষগুলো, ব্যক্তিগত সম্পত্তিও। যা আমাদের অনেক কষ্ট দেয় এই হারানোর বেদনা আমাদের কাতর করে। অনেক সময় একা হলে এগুলো ভাবায়, অনেক সময় হয়তোবা কান্নাও পায়। কিন্তু এই হারিয়ে ফেলা নিয়ে তো জীবন পাড় করে দেয়া যায় না। এই হারিয়ে ফেলা যা আমাদের ভূল এর ফলে হয়েছে তা নিয়ে আঁকড়ে থাকলে তা আমাদের সম্ভাবনাময় বর্তমান এর উপরও প্রভাব বিস্তার করবে। যা ভবিষ্যৎ গঠনের পথে অন্তরায়। তাই এটাই বুদ্ধিমান এর কাজ হবে, অতীতে করা ভুলগুলো থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে, যা আছে তা সম্বল করে আমাদের লক্ষ্যের পানে ছুটে চলা। 

আপনি লক্ষ্য করলেই দেখবেন গাড়ির পিছনে দেখার গ্লাস এর চেয়ে সামনে দেখার গ্লাস প্রায় ৫০ গুণ বড়। এই উইন্ডশিল্ড এত বড় এর কারন হল, যাতে করে আমরা কোথায় যাচ্ছি সেই লক্ষ্যে অধিক মনযোগী হওয়া, যেখান থেকে পাড় হয়ে আসলাম তার চেয়ে। অতীতের ব্যর্থতাগুলো বা লসগুলোতে মনোনিবেশ করলে এটি আমাদের সফল ট্রেডার হওয়ার পথে অনেক বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে। সকল ট্রেডারগনই ট্রেড করতে যেয়ে যেমন টাকা আয় করে তেমনিভাবে হারায়ও, কিন্তু সফল ট্রেডারগণ যতটা টাকা হারায় তার চেয়ে বেশী টাকা আয় করে। সফল ট্রেডারগণকে লস করা ট্রেড যতটা উদ্বিগ্ন করে তার চেয়ে অনেক বেশী লক্ষ্য করেন পরবর্তী সুযোগ এর অপেক্ষা যা সবসময় সম্ভাবনার দুয়ার খুলে আমাদের আহবান করে। কিন্তু যারা পিছনের ভুলগুলোতে বা হারিয়ে ফেলা বস্তুগুলোতে এতটা নিমগ্ন থাকে যে তা খেয়াল করার ই সুযোগ পায়না। এই অতীত এর হারিয়ে ফেলায় মনোযোগ তাদের তীব্র মানসিকতা তৈরি করে। যদি এই তিক্ত মানসিকতা বা পরাজিত মনোভাব নিয়ে কেউ ট্রেড করতে আসে তার মানে হল সে/তিনি তার সাথে অতীতের তিক্ত আবেগ এর যে জঞ্জাল/বোঝা তা নিয়ে ট্রেড করতে আসেন, যা তাদের সফলতার পথে বাধা হয়ে দাড়িয়ে থাকে। তাই সফলতার জন্য হারিয়ে ফেলা অর্থের চেয়ে সম্ভাবনার পানে লক্ষ্য রেখে ট্রেড করা প্রয়োজন। 

১৩. আপনি কি আপনার লক্ষ্য স্থির করেন এবং তা অনুযায়ী পরিকল্পনামাফিক কাজ করেন, নাকি লক্ষ্যহীনভাবে ছুটে বেড়ান? 

১৩. আপনি কি আপনার লক্ষ্য স্থির করেন এবং তা অনুযায়ী পরিকল্পনামাফিক কাজ করেন, নাকি লক্ষ্যহীনভাবে ছুটে বেড়ান?

আপনি যখন কোন লক্ষ্যস্থির করেন আপনি সেই লক্ষ্য অর্জন এর পূর্ব পর্যন্ত সেইপথে ছুটে চলেন নাকি  মাঝপথে হতাশ হয়ে পড়েন এবং তা থেকে সরে আসেন? যতগুলো অভ্যাস আমরা গঠন করবো তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্নগুলোর একটি হল, যা আমরা শুরু করি তা সম্পন্ন করা। 

অধিকাংশ মানুষই অসফল এই কারনে নয় যে তারা শুরুই করেনি, এর কারন হল তারা তাদেরই ঠিক করা লক্ষ্যে পানে স্থিরভাবে না ছুটে প্রায় প্রতিদিন, সপ্তাহ, বা মাসেই নতুন লক্ষ্যে পানে ছুটে বেড়িয়েছে যা তাদের বেড়ে উঠার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কখনো একটি দক্ষতা কিছুটা অর্জিত হয়েছে আবার কিছুদিন পর নতুন দক্ষতা অর্জনের প্রচেষ্টায়রত হওয়ার পূর্বের দক্ষতা আর অর্জিত হয় নি, যার ফলে তারা কখনোই এগিয়ে যেতে পারে নি, যা এগিয়েছে তা হচ্ছে তাদের বয়স। আর যখন পিছনে তাকিয়েছে দেখেছে হায় হায় এত লম্বা পথ পাড়ি দিয়েছি অথচ পিছনে সবইতো অসমাপ্ত গল্প, যা তাদের হতাশ করে দেয়, এবং বাধ্য হয় কোনমতে জীবনযাপনে।

অন্যদিকে লক্ষ্যস্থির করার মানে হল, আমাদের সামনে একটি স্পষ্ট দৃশ্যমান রাস্তা তৈরি করা যা না থাকলে আমরা আমাদের অজান্তেই পথের দিশা হারিয়ে ফেলতে পারি, এবং অক্ষম হয়ে পড়ি ট্রাক এ আসতে লক্ষ্য স্থির করে প্রতিদিন কিছু কিছু অগ্রগতি হলেও তা আমাদের স্বপ্নের পথে, অর্জনের পথেই রাখে যা আমাদের সফলতার পথ রচনা করে। যদি ট্রেডিং এর সময় আপনি কোন লক্ষ্য স্থির না করেন, তাহলে আপনি বুঝতেই পারবেন না আপনি কতটা সামনে আগালেন বা আর কতটা পথ পাড়ি দিতে হবে। 

যে কোন বড় অর্জনেই থাকে পিছনে আসা বা পিছিয়ে আসার গল্প থাকে “সেটবেকস”, কিন্তু শুরু করতে যেয়ে যদি স্থির লক্ষ্য নির্ধারন করা যায়, এবং প্রাপ্তি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারনা থাকে, তাহলে যত কঠিন ধাক্কাই আসুক না কেন তা আপনাকে মূল লক্ষ্যে পানে ছুটা থেকে বিরত করতে পারবে না, যে ট্রেডারগন তাদের লক্ষ্য স্থির করেন এবং সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা করেন এবং কোন বাধা, হারিয়ে ফেলা, ভয় তাদের লক্ষ্যে পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজে বাধা হয়ে না দাড়াতে পারে তারাই অবশেষে সফল ট্রেডার। যারা স্বপ্নের মতো জীবনযাপন করেন যা অধিকাংশ মানুষ স্বপ্ন দেখেন। 

সফল ট্রেডার তারাই যারা ১০০ ভাগ সফলতার সাথে তাদের ট্রেডগুলো দিতে পারেন। সফল মানে এই নয় যে ১০০ ভাগ ট্রেড থেকেই তারা আয় করবেন। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের শেষে তারা যতটা হারাবেন তার চেয়ে অধিক আয় করবেন। আমাদের বাস্তববাদী লক্ষ্যে স্থির থাকা মানে হল আমাদের যে পরিকল্পিত কাজ তাতে ডিসিপ্লিন থাকা। 

তাহলে আপনার জীবনের লক্ষ্য কি ?

এখন আপনি জানেন আপনি কোন অবস্থানে রয়েছেন। আর কোন ব্যক্তির সাথে না হলেও নিজের সাথে শেয়ার করুন যা সত্যি সি তথ্যগুলো। আপনার ভুলগুলো প্রথমে স্বীকার করে নেয়াই হল পরিবর্তনের পথে প্রথম পদক্ষেপ। যখন আপনি সচেতন হয়ে উঠবেন এবং পরিবর্তন করতে চাইবেন তখন সম্ভব্য সকল পথ এর দ্বার আপনার সামনে উন্মুক্ত হতে থাকবে, যা আপনাকে সফলতার পথে নিয়ে যাবে। 

পরিশেষে ১৩ টি পদক্ষেপ শেষে আপনার করনীয় 

পরিশেষে ১৩ টি পদক্ষেপ শেষে আপনার করনীয়
১৩ টি পদক্ষেপ শেষে আপনার করনীয়

আপনার দির্ঘস্থায়ী ট্রেডিং ক্যারিয়ার এর সফলতার জন্য, আলোচনা করা ১৩ টি প্রশ্নের সঠিক উত্তর সময় নিয়ে দিন, এটি আপনার সফলতার পথে মজবুত ভিত গঠনে সহায়তা করবে। আপনার ব্যক্তিজীবনের ভবিষ্যৎ নীতি-নির্ধারন এর দ্বায়িত্ব/বাধ্যবাধকতা রয়েছে। 

সফলভাবে ফরেক্স ট্রেড করার জন্য প্রথম পদক্ষেপই হল একটি ব্যক্তিগত এবং ব্যবসায়িক নীতিনির্ধারণ। এই ব্লগে/ওয়েবসাইট আমাদের মনস্তাত্ত্বিক বিষয়গুলোর উপরেই অধিক আলোকপাত করা হবে এর কারন হল আমাদের বাকি যে বিষয়গুলো একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই জেনে নেয়া যায়, কিন্তু এগুলোর সঠিক বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজন সেলফ ম্যানেজমেন্ট যা অর্জন করতে না পারলে বাকি সকল শিক্ষায় শিক্ষিত হয়েও সফল ট্রেডিং ক্যারিয়ার গঠন সম্ভব নয়। 

ট্রেডিং এর নিয়মকানুন শিখে কি হবে যদি আপনি নিয়ম ভাঙ্গতে সিদ্বহস্ত হন? যে কোন ধরনের প্যটার্ন  এ দক্ষতা অর্জন করেন না কেন মার্কেট আপনাকে প্রতিনিয়ত নতুন করে ধাধায় ফেলবে তাই নিয়ম ভাঙলে আপনার কোন নতুন স্ট্রেটিজিই কার্যকর হবে না। 

আপনি যদি আপনার অতীতের ভূল থেকে শিক্ষা গ্রহন না করেন তাহলে যতবারই নতুন করে ডিপোজিট করবেন না কেন এ অর্থ আপনার নয়। 

চলুন আমরা একই সাথে আমাদের ব্যক্তিজীবন এবং ট্রেডিং ক্যরিয়ার এর লক্ষ্যে। নীতিনির্ধারণ করি এবং তা বাস্তবায়নে পাশাপাশি থেকে প্রচেষ্টায় রত থাকি। 

1 thought on “ফরেক্স/শেয়ার মার্কেট এ ট্রেডিং শুরু করার পুর্বে যে ১৩ টি প্রশ্নের উত্তর আপনার জানা প্রয়োজন”

  1. Pingback: beingatrader

Comments are closed.