প্রাইজ চার্ট এর মূলে রয়েছে যে দর্শন

প্রাইজ চার্ট এর মূলে রয়েছে যে দর্শন

আমাদের মধ্যে একটি কথা প্রচলিত রয়েছে, ” চোখ যে মনের কথা বলা”। প্রায় একই রকমভাবে চার্ট লাখ ট্রেডারদের মনের ভাব প্রকাশের মাধ্যম। আমরা যেমন মুখে যাই বলি না কেন, চোখ সত্য লুকাতে পারেনা, তেমনিভাবে চার্ট ট্রেডারদের মুখের কথায় নয় তাদের মনের ভাব এর বহিঃপ্রকাশ। 

চার্ট হচ্ছে যে কোন ফাইনান্সিয়াল ইন্সট্রুমেন্ট এর ফান্ডামেন্টাল এবং সেন্টিমেন্টাল অবস্থার বহিঃপ্রকাশ  যেখানে আমরা সময় , ভলিউম, ভোলাটিলিটি এবং ওই সময়ে ঐ ইন্সট্রুমেন্ট কোন ট্রেন্ড এ আছে তার ধারনাও পেয়ে যেতে পারি শুধুমাত্র একটি স্ক্রিনেই। 

চার্ট নিয়ে অনেক ভাবনা,কথা প্রচলিত থাকলেও, চার্ট আমরা যতই বুঝতে পারবো ততই স্পষ্ট হবো যে চার্ট মূলত আমাদের একটি গল্প বলে। চার্ট, সকল গুজব, বিভিন্ন নিউজ হেডলাইনস যা আমাদের অনেক সময়ই সিদ্বান্ত নিতে অনুপ্রানিত করে বা অনিশ্চয়তা, প্রতারণা, মিথ্যা প্ররোচনা এই সকল কিছুকে দূর করে। 

চার্ট আমাদের সময় অনুযায়ী ভলিউম, ভোলাটিলিটি এবং ট্রেন্ড এর মাধ্যমে যে গল্পগুলো বলতে চায়ঃ 

১। ফান্ড ম্যানেজার/ (বিশাল অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান এর মার্কেট এর ইনভেষ্টমেন্ট যারা নিয়ন্ত্রণ করে)- তারা কি কোন শেয়ার/ কারেন্সী পেয়ার নতুন করে ক্রয় করছেন না কি প্রফিট নেয়ার সঠিক সময় মনে করছেন। 

২। কখনো কখনো কোন ফাইনান্সিয়াল ইন্সট্রুমেন্ট (শেয়ার/ কারেন্সি পেয়ার) যদিও হিউজ সেল হয় বা বেয়ার’স দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। তখনও কোন শক্তিশালী সাপোর্ট এরিয়াতে তারা ওই কারেন্সি পেয়ার এ আরও অধিক ক্রয় করে বা কারেন্সিতে লং এ অবস্থান নেয় যাতে করে আরও বড় প্রফিট মার্জিন করতে পারে। 

৩। মার্কেট নিউজ যা আমাদেরকে প্রভাবিত করে, অনেক সময় এমন হয় যে আমাদের স্ট্রেটিজি লং সাপোর্ট করে কিন্তু মার্কেট নিউজ ভিন্ন ধারনা দেয় এই সময় চার্ট  আমাদের ধারণা দিতে পারে যে বড় ফান্ড ম্যানেজারগণ ওই নিউজ এ কি পতিক্রিয়া দেন। দুটি ঘটনা ঘটতে পারে। 

A. মার্কেট নিউজ নেগেটিভ কিন্তু তারা আরও বেশী শেয়ার বা কারেন্সি ক্রয় করছে।লং এ অবস্থান নিচ্ছে। 

B. মার্কেট নিউজ পজিটিভ, কিন্তু তারা তাদের কাছে থাকা শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছে বা শর্ট এ অবস্থান নিচ্ছে। 

যখনই আমরা চার্টের এই গল্পগুলো বুঝতে পারবো কখন কোন অবস্থায় চার্ট কি রকম পরিবর্তিত হয়, কখন কখন বাই বা সেল মনে হলেও আরও অপেক্ষা করা প্রয়োজন আবার কখন সকল সাইন বাই এর পক্ষে সমর্থন করলেও সেল ট্রিগার করতে হয়। এই সকল বিষয়গুলোর উপরই একজন সফল ট্রেডার তৈরি হয়। 

আমরা চার্ট থেকে যে কোন ফাইনান্সিয়াল ইন্সট্রুমেন্ট এর যে বিষয়গুলো পাই 

১। প্রাইজ 
২। ভলিউম 
৩। ভোলাটালিটি 
৪। ডাইরেকশন 

যা থেকে আমরা উক্ত শেয়ার/কারেন্সি পেয়ার এর সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নিতে পারি যা আমাদের ট্রেড এ সিদ্বান্ত নেয়ায় বেশ বড় ভূমিকা রাখে। 

১. প্রাইজ হল কোন শেয়ার/কারেন্সির ভ্যালু

প্রাইজ প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল কোন শেয়ার কত ভ্যালু থাকবে তা নির্ধারন করা যায় শুধু  একবার যখন মার্কেট এ ইন্ট্রুডিউস হয় তখন তারপর প্রাইজ এর বাড়া কমা নির্ভর করে অনেকগুলো বিষয় এর উপর নির্ভর করে। কয়েক মিনিট হতে, কয়েক দিন ,মাষ এর সময় এর প্রাইজই সম্মিলিতভাবে চার্ট এ প্রতিফলিত হয়। যেমন কোন  শেয়ার/কারেন্সি পেয়ার এর ১০ দিন এর ক্লোজিং  প্রাইজ এর মধ্যে যোগ রেখা টানলে যে লাইন পাওয়া যাবে তাই হল লাইন চার্ট। এক এক ধরনের চার্ট এ প্রাইজ এর ভিসুয়ালাইজেশন ভিন্ন ভিন্ন রকম হয়ে থাকে। EUR/USD- ১.২৩২০ এর মানে হল ১ EUR দিয়ে  আমরা ১.২৩২০ USD পাব অর্থাৎ ১ USD = যদি ৮৫ টাকা হয়। ১ EUR = ৮৫ টাকা * ১.২৩২০ = ১০৪.৭২ টাকা। কোন একটি কোম্পানির শেয়ার এর ভ্যালু নির্ধারিত হয় ঐ কোম্পানি যতগুলো শেয়ার ইস্যু( সরবরাহ) করে। যদি কোন কোম্পানির আনুমানিক ভ্যালু হল ২০ কোটি টাকা, তাহলে উক্ত কোম্পনিটি হয়তো ২০ লাখ শেয়ার পাবলিকলি সরবরাহ করেছে যার ১ একটি শেয়ার এর মূল্যমান ১০ টাকা। 

২.ভলিউম

কোন ইন্সট্রুমেন্ট এর প্রাইজ এর উঠানামা আমাদের গল্পের একটা অংশের ধারণা দেয়। স্পষ্ট করে বুঝতে হলে আরও  যা জানতে হবে তা হল ভলিউম  অর্থাৎ উক্ত নির্দিষ্ট সময়ে (যে সময়ের প্রাইজ আমরা চার্ট এ দেখবো) কত পরিমাণ ফান্ড এর বাই এবং সেল হচ্ছে। তার পরিমাণও জানতে হবে। 

উদাহরণ হিসেবে এমন হতে পার যে আমরা যদি শুনি  রান্নাঘরে পানির পাইপ লিকেজ হয়েছে তাহলে আমরা এটাও শুনবো যে কতটুকু হয়েছে যাতে করে বুঝতে পারি কি পরিমান পানি প্রবাহিত হচ্ছে, কম কম করে নাকি বেশ করে ভাসিয়ে দেয়ার মতো। 

এভাবেই আমরা শুধুমাত্র প্রাইস এর উত্থান পতন দেখে যতটা বুঝতে পারি তার থেকে অনেক অর্থপূর্ণ হবে যদি এটাও বুঝতে পারি কতটা ভলিউম ঐ প্রাইস এর পতন বা উত্থান ঘটিয়েছে।

যে কোন ফাইনান্সিয়াল ইন্সট্রুমেন্ট এর প্রাইজ এর পরিবর্তন প্রতিনিয়ত ঘটতে থাকলেও বড় ভলিউমগুলো যেমন ভিবিন্ন ফাইনান্সিয়াল প্রতিষ্ঠান( ব্যাংক,বীমা,হেজ ফান্ড) এর অধিকাংশের পরিবর্তন ঘটায়। ইন্টারনেট এর বিপ্লব এর ফলে ছোট ছোট ট্রেডারদের মার্কেট এ অংশগ্রহণ বেশ সহজ হওয়াতে এখন মার্কেট এ রিটেইল ট্রেডারদের সংখ্যাও অনেক। কিছু বিশাল পরিমান এর ফান্ডগুলো যা বড় বড় ফাইনান্সিয়াল প্রতিষ্ঠান দ্বারা ট্রেড হয় এগুলো মার্কেট এর বড় পরিবর্তন এর মূলে থাকে। তাদের বিশাল ভলিউম এর বাই সেলই শেয়ার/কারেন্সির মূল্য বৃদ্ধির বা পতনের জন্য অনেক বড় ভূমিকা রাখে। 

আমরা যখন চার্টে মার্কেট এর ভলিউম লক্ষ্য করি তার মানে হল আমরা জানতে চাই কখন এই ফান্ড ম্যনেজারগন ট্রেড করছেন। যা সঠিকভাবে উপলব্দি করতে পারেলে কখন কোন শেয়ার/কারেন্সির বাই করতে হবে বা সেল করতে হবে বা দীর্ঘ সময় রেখে দিতে হবে তা নির্ধারন করা যায়।

৩.ভোলাটিলিটি

অস্থিরতা যখন কোন শেয়ার/কারেন্সির এর উপর কারও নিয়ন্ত্রন থাকে না  অর্থাৎ এককভাবে বায়ার বা সেলাররা নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয় কিন্তু পর্যাপ্ত ভলিউম থাকে তখন ঐ মার্কেট অবস্থাকে বলা হয় ভোলাটাইল মার্কেট। যাতে করে উক্ত শেয়ার/কারেন্সির ভোলাটিলিটি বুঝা যায়। যখন কোন অর্থনৈতিক ক্রাইসিস, প্রাকৃতিক বিপর্যয় , রাজনৈতিক অস্তিরতা এই সকল কারনেই মূলত মার্কেট ভোলাটিলিটি বৃদ্ধি পায়। শেয়ার এর ক্ষেত্রে কোম্পানির মালিকানা পরিবর্তন, বড় কোন ঘোষণার সময় বা কোম্পানীর কোন তথ্য যা খুবই গোপন কিন্তু কোন ভূলে তা পাবলিক হয়ে গিয়েছে এমন। এই সময় বিজ্ঞ ট্রেডার গন মার্কেট অব্জারবেশন করে ট্রেড থেকে দূরে থাকেন সাধারনত।

৪.ডিরেকশন

মার্কেট সবসময় তিনটি পথে চলাচল করে, আপট্রেন্ড, ডাউনট্রেন্ড এবং সাইডওয়ে । চার্ট আমাদের একনজরে এ তথ্য দেয় যে মার্কেট এখন কোন ডিরেকশন এ রয়েছে। কোন নির্দিষ্ট ফাইনান্সিয়াল ইন্সট্রুমেন্ট এর ট্রেন্ড জানা থাকলে বাই সেল এর সিদ্ধান্ত নিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। 

তাই চার্ট সম্পর্কে বুঝা জানা একজন সফল ট্রেডার হওয়ার পথে অনেক বড় ভূমিকা পালন করে। চার্ট বুঝতে হলে আমাদের চার্টের ধরণ সম্পর্কে জানতে হবে। আমাদের পরবর্তী আর্টিকেল এ চার্ট কত প্রকার এবং কোন কোন চার্ট অধিক জনপ্রিয় তা নিয়ে আলোচনা করবো।