ডে-ট্রেডিং এর ৬টি রুলস

ডে ট্রেডিং সম্পর্কে বিস্তারিত এবং শুরু করতে প্রয়োজনীয় ৬ টি নিয়ম

ইন্টারনেট বিপ্লবের ফলে, ট্রেডিং এখন শুধুমাত্র বড় বড় ফাইনান্সিয়াল ইন্সটিটিউট,ব্রোকারেজ এবং ট্রেডিং হাউজ এর কাছেই নেই। যে কোন একক ব্যক্তিও তার হাতে থাকা ছোট ডিভাইস এর মাধ্যমে খুবই অল্প সময়ে সহজে এবং নামমাত্র বিনিয়োগ এর মাধ্যমে ( যদিও তা আমরা করবো না, পরের আর্টিকেলগুলোতে এর বিস্তারিত বিবরন করবো) যে কোন ট্রেডিং ডে তেই বিশাল এই মার্কেট এ( কারেন্সি/শেয়ার) ট্রেড করার সুযোগ লাভ করতে পারেন। 

খুবই সহজে কোন বাধাধরা নিয়মের মধ্যে না থেকেও ট্রেড করা যায়, বিপুল সম্ভাবনাময় ট্রেডিংকে অনেক আকর্ষণীয় অপশন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। একজন সফল ট্রেডারকে কোন বস এর কাছে রিপোর্টিং করতে হয় না, কোন নির্দিষ্ট সময় অফিস মেনটেইন করার প্রয়োজন হয় না, যে কোন সময় কাজ থেকে স্বেচ্ছায় ছুটি নিয়ে ফ্যামিলির সাথে ঘুরতে যেতে পারে এবং ঘুরতে যেয়ে অর্থনৈতিক সংকটও হয় না।  এই বিষয়গুলোই এই ট্রেডিংকে সম্ভবত পৃথিবীর সবচেয়ে আকর্ষণীয় প্রফেশনগুলোর তালিকায় একেবারে শীর্ষ স্থানীয় পর্যায়ে রাখে।

যেহেতু স্বপ্নের জীবনযাপন করা সহজ নয়, সাধারণ বিষয়, তেমনিভাবে সফল ট্রেডার হওয়াও সাধনার বিষয়। অনেক সফল ডে ট্রেডারগনও কখনো কখনো অনেকগুলো লস একসাথে মেনে নিতে হয় যা খুবই কষ্টকর চোখের সামনে আমার একাউন্ট এর টাকাগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। তাই প্রথমে আমাদের বুঝতে হবে ডে- ট্রেডিং, যাতে করে সঠিকভাবে ট্রেডিং এর মাধ্যেমে সম্ভাবনাময় এই ক্যরিয়ারকে সফলভাবে যাপন করতে পারি। 

এই আর্টিকেল এ আমরা জানব ডে-ট্রেডিং সম্বন্ধে, কি কি গুণ থাকা প্রয়োজন একজন ডে-ট্রেডার এর,  ডে-ট্রেডিং কি নয় তা সম্পর্কে, যা আমাদের ট্রেডিং ক্যারিয়ার এর সুন্দর সূচনায় সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করি। ডে-ট্রেডিং দ্রুত ধনী হওয়া বা রাতারাতি ধনী হওয়ার কোন পদ্ধতি নয়। ডে-ট্রেডিং গ্যাম্বলিং বা লটারি টিকেট এর মতো হঠাৎ করে অর্জন করার মত কোন বিষয় নয়। এটিই ডে-ট্রেডিং এ করা সবচেয়ে বড় ভূল, যা সম্পর্কে সচেতন হলে ভূল নিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করার প্রয়োজন হবে না। ডে-ট্রেডিং দেখতে খুবই সহজ মনে হলেও এটিই সত্যিকার রূপ নয়। ব্রোকারগুলো সাধারণত কাস্টমারদের/ট্রেডারদের তথ্যসমুহ জনসম্মুখে প্রকাশ করে না। কিন্তু ম্যাসাচুটাস এ একটি স্টেট কোর্ট এর নির্দেশে সেখানকার ফাইনান্সিয়াল ব্রোকারসমূহ তাদের তথ্যপ্রকাশ করেছিল। যে রেকর্ডস এ দেখা যায় ৬ মাস ট্রেডিং এর পর মাত্র ১৬% ডে ট্রেডারগনই কেবলমাত্র টাকা আয় করেছিলেন। এটি ওই ৮৪% এর জন্য অতটা সহজ নয় যতটা দেখা যায়, যারা তাদের টাকা হারায় মার্কেটএ।

ডে-ট্রেডিং সম্পর্কে সাধারণ কিছু ধারণা/ বেসিক অব ডে ট্রেডিং 

ডে-ট্রেডিং হচ্ছে একই দিনের মধ্যে কোন শেয়ার/কারেন্সি পেয়ার কেনা এবং বিক্রি করা। এটি যে কোন মার্কেটপ্লেস এই হতে পারে তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি বুঝায় শেয়ার এবং কারেন্সি মার্কেট এ যা ফরেক্স নামে অধিক পরিচিত।  ডে ট্রেডারগন সাধারণত শিক্ষিত এবং পর্যাপ্ত বিনিয়োগ এর অধিকারী হয়ে থাকেন যদিও এখন অনেকেই বেশ অল্প পরিমান বিনিয়োগ এর মাধ্যমেও  ডে-ট্রেডিং করছে। তারা লেভারেজ এর ব্যবহার করেন যাতে করে তাদের বিনিয়োগকৃত মূলধন এর মাধ্যমে অধিক পরিমান শেয়ার/কারেন্সি পেয়ার এর অংশ ক্রয় বিক্রয় করতে পারেন, তাদের ট্রেডিং স্ট্রেটিজিগুলোও হয় শর্ট টার্ম এর যাতে করে একদিনের যে মুবমেন্ট হয় কোন শেয়ার/কারেন্সি পেয়ার এর তার সর্বোচ্চ সুযোগ নেয়া যায়। তারা অবশ্যই প্রচুর তারল্যে থাকে এবং মুভমেন্ট থাকে এমন শেয়ার/কারেন্সি পেয়ারই ট্রেড করে থাকেন। 

ডে-ট্রেডারগন মার্কেট মুব এর জন্য গুরত্বপূর্ন বিষয় এর সাথে সংযুক্ত থাকেন। যেমন নিউজ, ফাইনান্সিয়াল ইভেন্ট, যে দেশের কারেন্সি পেয়ার এ ট্রেড করবেন সে দেশের গুরুত্বপূর্ন অর্থনৈতিক ঘটনাবলী ,যে কোম্পানির শেয়ার ক্রয় বিক্রয় করবেন তা সম্পর্কে তার পরিচালনা পর্ষদ এর কোন গুরুত্বপূর্ন অর্থনৈতিক পদক্ষেপ,কোন লভ্যাংশ বন্টন এমন সকল সংবাদ এর সাথে যুক্ত থাকার জন্য বিভিন্ন গুরত্বপূর্ন মাধ্যম রয়েছে যেমন স্যাটেলাইট চ্যানেল অনলাইন নিউজ পেপার, বিভিন্ন ফাইনান্সিয়াল নিউজ পোর্টাল বা ওয়েবসাইটগুলোর সাথে যুক্ত থাকেন। এই নিউজগুলোর উপর মার্কেট এ বিশাল প্রভাব পড়ে, যেমন কোন দেশের ইন্টারেষ্ট রেট যদি বাড়ে বা কমে তবে তা ওই দেশের কারেন্সির চাহিদার উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে যার ফলে এই ইভেন্ট মার্কেট এ প্রচুর সম্ভাবনাময় মুভমেন্ট আশা করা যায়, যা একজন সফল ট্রেডার এর বেশ প্রফিট লাভ করার সূযোগ হতে পারে। 

ডে ট্রেডারগন সারাদিনের ট্রেডিং সেশন এ বেশ কিছু স্ট্রেটিজির ব্যবহার করেন যার মধ্যে রয়েছেঃ

স্ক্যাল্পিং(scalping) এই স্ট্রেটিজির মূল হলো ছোট ছোট করে বেশ কয়েকবার ট্রেড করা, এই স্ট্রেটিজিতে একজন ডে ট্রেডার একই শেয়ার/কারেন্সি পেয়ার এ একাধিকবার ট্রেড করে থাকেন এবং খুবই ছোট প্রফিট টার্গেট থাকে। 

রেঞ্জ ট্রেডিং (Range Trading)- এই স্ট্রেটিজিতে প্রাথমিকভাবে সাপোর্ট এবং রেসিস্ট্যান্স থেকে ট্রেড এ এন্ট্রি নেয়া হয় বা ট্রেড এর ডিরেকশন ঠিক করা হয়।

নিউজ ভিত্তিক ট্রেডিংঃ এই স্ট্রেটিজির মূলে রয়েছে গুরুত্বপূর্ন নিউজ ইভেন্টগুলো যেগুলো মার্কেট এ ব্যাপক প্রভাব ফেলে। 

ডে-ট্রেডিং এর কিছু নিয়মানূবর্তীতা/রুলস

রুল নাম্বার ০১ঃ ট্রেড শুরু করার পূর্বে এর মূল লক্ষ্য স্পষ্ট হওয়া জরুরী, ডে-ট্রেডিং কোন দ্রুত ধনী হওয়ার পদ্ধতি নয়। 
ট্রেড শুরু করার পূর্বে এর মূল লক্ষ্য স্পষ্ট হওয়া জরুরী, ডে-ট্রেডিং কোন দ্রুত ধনী হওয়ার পদ্ধতি নয়।
ট্রেড শুরু করার পূর্বে এর মূল লক্ষ্য স্পষ্ট হওয়া জরুরী, ডে-ট্রেডিং কোন দ্রুত ধনী হওয়ার পদ্ধতি নয়।

ডে-ট্রেডিং নিয়ে বেশ কিছু ভুল ধারণা বর্তমান ডে-ট্রেডিং খুবই সহজ শুধুমাত্র প্রাইস কমলে কিনতে হবে এবং প্রাইস বাড়লে বিক্রি করতে হবে বা ” বাই দা ডীপ” ” সেল দ্যা র‍্যালী” এইতো আরকি। কিন্তু এটি সহজ নয়, এই সত্যটি মেনে নিয়ে ডে-ট্রেডিং শুরু করা। 

যদি এতই সহজ হবে, তাহলে সবাই সফল ট্রেডার হতো, এটি কঠিন তাই এখান থেকে আয় করতে হলে বেশ কিছু দক্ষতার প্রয়োজন। সেই দক্ষতাগুলো অর্জন করতে না পারলে সফলতা সম্ভব নয়। দ্রুত ধনী হওয়ার কোন পদ্ধতি মনে করে শুরু করলে আমি বলবো আপনি ডে-ট্রেডিং শুরু না করে, সে পুঁজি দিয়ে আপনার পরিবার নিয়ে কোন ভ্যাকেশন থেকে আসুন, মার্কেট এ পূঁজি হারানোর চেয়ে, পরিবারের সাথে সেই টাকা খরচ করাই উত্তম তাই নয় কি ? 

কিন্তু প্রফেশনাল ডে-ট্রেডিং নতুন ট্রেডারদের মতো ক্যাসুয়্যালি করার মতো কাজ নয় এর জন্য প্রয়োজন ডিসিপ্লিন, অধ্যাবসায়, পর্যালোচনা, পর্যবেক্ষণ, নিয়ন্ত্রণ এইগুলোর সমন্বয়েই কেবল একজন সফল ডে-ট্রেডার তৈরি হন।

রুল নাম্বার ০২ঃ  ডে-ট্রেডিং সহজ নয়, এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন ব্যবসায়ের মতোই ,তাই একে তেমনিভাবেই মেনে নেয়া। 

ট্রেডিংকে বুদ্ধিমত্তার সাথে সঠিক মূল্যায়ন এর মাধ্যমেই একজন সফল ট্রেডার তৈরি হয়। ইমোশনাল ট্রেডিং হচ্ছে ব্যর্থ ট্রেডার হওয়ার প্রথম কারন, আপনার প্রয়োজন হবে সেলফ ডিসিপ্লিন এবং সুরক্ষিত মানি ম্যানেজমেন্ট। একজন ভালো ট্রেডার তাদের টাকা এবং ট্রেডগুলোকে খুব সচেতনভাবে দেখেন যেমন দক্ষ স্কুবা ডাইবারগন তাদের বাতাসের সাপ্লাইকে দেখেন। 

ডে-ট্রেডিংএ ভালো করতে হলে সাধারণ এর চেয়ে কিছুটা ভালো হওয়া যথেষ্ট নয়, আপনাকে হতে হবে সবচেয়ে চমৎকার কিছু গুনের অধিকারী যাতে করে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে থাকা যায়। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হল যে ডে-ট্রেডিং প্রায়ই আবেগগন , আবেগপ্রবন জুয়াডু এবং যারা ওভার কনফিডেন্ট তাদের কাছে আকর্ষণীয় সুযোগ বলে মনে হয়। আপনি সফল ট্রেডার হতে চাইলে এই দলের অন্তর্ভুক্ত হওয়া যাবে না, আপনাকে অবশ্যই একজন বিজয়ীর মতো ডিসিপ্লিন ডেভেলপ করতে হবে। বিজয়ীগন, ব্যর্থদের চেয়ে ভিন্ন ভাবে অনুভব করেন ভাবেন এবং ভিন্ন কিছু করেন( কাজের পদ্ধতিতে)। আপনাকে আপনার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে আপনার বিভ্রান্ত ধারণাগুলোকে পরিবর্তন করতে হবে। আপনার পুরাতন ভাবনার, হতে চাওয়ার এবং কাজ করার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে হবে। পরিবর্তন সহজ নয় , কিন্তু আপনি যদি সফল ট্রেডার হতে চান, আপনাকে কাজ করতে আপনারই পরিবর্তনে এবং আপনার ব্যক্তিত্ব গঠনে, সফলতার জন্য আপনার প্রয়োজন প্রেরণা জ্ঞান এবং নিয়মানুবর্তিতা। 

তাহলে ডে-ট্রেডিং এর জন্য কি কি প্রয়োজন? 

এটি আইনজীবী ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার এর মতোই একটি প্রফেশন, ডে-ট্রেডিং এর জন্য প্রয়োজন সঠিক টুলস শিক্ষা, ধৈর্য, অনুশীলন করা। আপনাকে ট্রেডিং নিয়ে ট্রেডিং সংক্রান্ত পড়াশোনা করতে অসংখ্য ঘণ্টা ব্যয় করতে হবে, পর্যবেক্ষণ করতে হবে কিভাবে অভিজ্ঞ ট্রেডারগন ট্রেড করেন রিয়েল একাউন্ট এ ট্রেডিং করার পূর্বে ডেমো প্রাকটিস করে নিতে হবে। 

গড়ে একজন সফল ডে-ট্রেডার প্রতিদিন $ ৫০০  থেকে $ ১০০০  আয় করতে পারেন। যা হলে মাসে প্রায় হয় $ ১০০০০ থেকে $ ২০০০০ প্রতিমাসে( ২০ ট্রেডিং ডে ধরে)। ব্যাবসায়িকভাবে হিসেব করলে যে পরিমাণ দাড়ায় $১২০০০০ থেকে $ ২৪০০০০। তাহলে কেন এটিকে সহজ ভাবতে হবে, যে কাজ থেকে এত পরিমাণ আয় করা যায় আইনজীবী, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, এবং অন্য আরও যারা প্রফেশনাল রয়েছেন তাদের বছরের পর বছর লেগে যায় এই পরিমাণ আয় করতে তাহলে কেন আমরা ডে-ট্রেডিং ভিন্ন কোন স্কেম বলে ভাববো? 

ডে-ট্রেডিং সহজ নয় এবং ডে-ট্রেডিং আমাদের সহজে ধনীও করবে না তাহলে আপনি কেন ডে-ট্রেডিং করবেন বা ডে-ট্রেডার হবেন?

ডে-ট্রেডিং যে কারনে আকর্ষণীয় তার বেশ কতগুলো কারনের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল লাইফষ্টাইল। আপনি বাসায় থেকে কাজ করতে পারবেন, দিনে শুধুমাত্র কয়েকঘন্টা কাজ করলেই যথেষ্ট এবং আপনি চাইলে যে কোন সময়ই ছুটি কাটাতে পারবেন। আপনার পরিবার এবং বন্ধুদের সাথে সময় কাটাতে পারবেন কোন বসকে না জানিয়েই বা কোন অনুমতি ব্যতিরেকে আপনিই আপনার বস, আপনি যে দিন থেকে ট্রেড শুরু করবেন সেই প্রথম দিন থেকেই আপনি আপনার কোম্পানির C.E.O আপনিই/আপনাকেই আপনার ব্যবসায়ের এক্সিকিউটিভ, সিদ্বান্ত সমূহও আপনাকেই নিতে। 

ডে-ট্রেডার এর লাইফষ্টাইল অত্যন্ত আকর্ষণীয়, ডে-ট্রেডিং চমৎকারভাবে রপ্ত করতে পারলে, আপনি একদিনে এমনকি হাজার ডলারও আয় করতে পারেন যা অনেক অন্যান্য প্রফেশন থেকে অনেক বেশী। এমনও ট্রেডার রয়েছেন যারা ডে-ট্রেডিং  থেকে ২০০০ ডলার এর ও বেশী আয় করছেন। কখনো কখনো কম আবার কখনো কখনো অধিক কিন্তু লংটার্মে তারা ২০০০ ডলার আয় করেন। আপনি যেখানেই থাকেন এবং যেভাবেই থাকেন প্রতিদিন ২০০০ ডলার যথেষ্ট আয় হওয়ারই কথা তাই নয় কি ? যা আপনাকে দিতে পারে চমৎকার লাইফষ্টাইল এবং স্বাধীনতা। ডে-ট্রেডিং দক্ষভাবে শিখতে পারলে, যে কোন মার্কেট থেকেই দক্ষতা কাজে লাগিয়ে প্রফিট করতে পারবেন। এবং যতদিন আপনি এই ক্যারিয়ার এ থাকবেন বা আপনার ট্রেডিং ক্যারিয়ার এ। How to day trade for living বইতে লেখক বলেন ডে-ট্রেডিং মানে হতে পারে আপনি টাকা ছাপানোর লাইসেন্স পেয়ে যাওয়ার মতো। কিন্তু এই নতুন ক্যারিয়ার এ দক্ষতা অর্জনে এবং অভিজ্ঞ হতে বেশ সময় প্রয়োজন। 

আপনি যদি আপনার নিজের ব্যবসা শুরু করতে চান/ আগ্রহী হোন তাহলে ডে-ট্রেডিং হতে পারে আপনার জন্য সেরা সুযোগ। আপনি সময় নিয়ে ভাবুন এবং ডে-ট্রেডিং এর সাথে অন্যান্য ব্যবসার তুলনা করুন হতে পারে কোন রেষ্টুরেন্ট বা সুপার শপ এর সাথে। যদি আপনি কোন সুপার শপ ওপেন করেন তবে আপনাকে বেশ কিছু টাকা বিনিয়োগ করতে হবে এর অগ্রিম এর জন্য এবং প্রোডাক্ট পারচেস তারপর প্রতি মাসের ভাড়া এবং ষ্টাফ সেলারি এই সকল কিছুতে অনেক বিনিয়োগ করা প্রয়োজন, কিন্তু এতসব কিছুর পরও নিশ্চয়তা নেই যে আয় করতে পারবেন নাকি নয়। এটিই ট্র্যাডিশনাল ব্যবসায়িক সত্যতা। অন্যদিকে থেকে তুলনা করলে ডে-ট্রেডিং  শুরু করা অনেক সহজ। আপনি চাইলে আজকেই ট্রেডিং একাউন্ট ওপেন করতে পারেন কোন খরচ করা ছাড়াই এবং যে কোন ট্রেডিং ডে থেকে ট্রেড শুরু করতে পারেন। অবশ্যই আপনি সঠিকভাবে শিক্ষিত হওয়ার পূর্বে  ট্রেড শুরু করা উচিত নয়। এই তুলনা অন্যান্য ব্যবসায়ের বা প্রফেশন এর তুলনায় ডে-ট্রেডিং কত সহজে শুরু করা যায়। এটি অনেক বড় সুযোগ হতে পারে আপনার জন্য যদি আপনি অন্যান্য প্রফেশন এ বা ব্যবসা শুরু করার মতো পর্যাপ্ত পূঁজি না থাকে। কিন্তু এই সুযোগের সঠিক ব্যবহার করতে শিক্ষাকে গুরুত্ব দিতে হবে সবচেয়ে বেশী। আমাদের সাথে থাকুন আপনার শিক্ষার প্রক্রিয়ায়। 

ডে-ট্রেডিং এ ক্যাশ ফ্লো করাও সহজ যেমন আপনি চাইলেই যে কোন সময় যে কোন শেয়ার/ কারেন্সি পেয়ার ক্রয় করতে পারেন, কিন্তু যদি মনে করেন ভূল সিদ্বান্ত তাহলে চাইলে যে কোন সময় বিক্রিও করতে পারেন। আপনার ইচ্ছেমত লস নিয়ে। কিন্তু যদি আপনি ইমপোর্ট এবং এক্সপোর্ট ব্যবসায়ীর কথা ভাবেন যিনি অন্যদেশ থেকে পণ্য আমদানি করেন, কিন্তু কোন কারনে পণ্য আমদানির সময় পণ্যের দাম কমে যায় বা অন্যান্য অনেক সমস্যা  হতে পারে যেমন ভেন্ডরদের সাথে, শিপিং এর সময়, কাষ্টমস এ, ডিষ্ট্রিবিউশন এর সময়, বিপণন এর সময়, পণ্যের গুনগত মান এবং কাষ্টমার সেটিসফেকশন সাথে তার টাকা এই সমস্ত প্রক্রিয়াটির সময়ই ব্লক থাকে সে চাইলেই এর মাঝামাঝি তার টাকা তুলে নিতে পারেন না। সকল কিছু সঠিক থাকা ছাড়া, আর কিছুই করার থাকে না। চাইলেও কিছুটা লস মেনে নিয়েও এক্সিট করার সুযোগ থাকে না। ডে-ট্রেডিং ক্ষেত্রে, যদি কিছু সঠিক মনে না হয় কোন ট্রেড নেয়ার পর কিছু সময় এর মধ্যেই আপনি চাইলেই ট্রেড এক্সিট নিয়ে ফেলতে পারেন শুধুমাত্র ছোট একটি লস মেনে নিয়ে। 

ডে-ট্রেডিং ব্যবসায় ক্লোজ করে ফেলাও সহজ যদি আপনি ভাবেন ডে-ট্রেডিং আপনার জন্য নয় বা যদি আপনি ডে-ট্রেডিং থেকে আয় করতে না পারেন,আপনি তৎক্ষণাৎ ট্রেডিং বন্ধ করে দিতে পারেন এবং টাকা তুলে ফেলতে পারেন। আপনি যে সময় এবং যতটুকু টাকা লস করেছেন এছাড়া আর কোন এক্সট্রা চার্জ এর প্রয়োজন নেই। অন্য কোন ব্যবসা ক্লোজ করা এতটা সহজ নয়, আপনি চাইলেই আপনার ষ্টোর, অফিস বন্ধ করে ফেলতে পারবেন না, এটি একটি জটিল প্রক্রিয়া অবশ্যই এবং অবশ্যই লস মেনে নিতে হবে। 

কেন অধিকাংশ মানুষ ডে-ট্রেডার হিসেবে ব্যর্থ হয়?

আমার মতে এর কারন হিসেবে ১ নাম্বার কারন হচ্ছে তারা এটিকে ব্যবসা হিসেবে বিবেচনা না করেই শুরু করে, জুয়া বা দ্রুত ধনী হওয়ার স্কেম মনে করেন। অনেকে ট্রেড শুরু করেন শখ হিসেবে বা ফান হিসেবে বা তারা এটিকে কুল প্রফেশন( আমি ট্রেডার) মনে করে বলে করে। 

লস করে এমন এমেচার ট্রেডারগন ট্রেড করেন এমনভাবে , যেমন গেম্বলারগন গেম্বলিং এর সময় থ্রিল অনুভব করেন তেমন। তারা মার্কেটকে বাজির মত বিবেচনা করে, বাজি ধরতে থাকে, খেলার মতো খেলতে থাকে, যেখানে ট্রেড এর প্রতি, মার্কেট এর জন্য সঠিক কোন কমিটমেন্ট থাকে না, যার ফলে তারা যা জানা প্রয়োজন তা না জেনেই সৌভাগ্যক্রমে( সার্বিকভাবে দূর্ভাগ্যক্রমে) কিছু প্রফিট করলেও অবশেষে একদিন তারা এর জন্য পানিশড হয় এবং ট্রেড থেকে অনিচ্ছাকৃত লিভ নেন। 

ট্রেডিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসা। একে ব্যবসায়ের মতো করেই গুরুত্ব সহকারে না নিলে ডে- ট্রেডিং এ সফলতা সম্ভব নয়। তাই টাকা বিনিয়োগ এর পুর্বে মানসিকতা তৈরি করে নেয়া প্রয়োজন। যদি আপনার কোন বিজনেস থাকে তাহলে নিশ্চয়ই তা পরিচালনা করার জন্য আপনার সঠিক পরিকল্পনা রয়েছে, আপনি কখন ওপেন করবেন, কখনো বিরতি থাকবে কিনা, কখন বন্ধ করবেন এমন অনেক বিষয় নিয়ে আপনার সঠিক পরিকল্পনার উপর ই যেমন ব্যবসায়ীক সফলতা নির্ভর করে। তেমনিভাবে ডে- ট্রেডিং এর ক্ষেত্রেও বেশ কিছু পরিকল্পনা প্রয়োজন, প্রতিদিন এর কিছু নির্দিষ্ট রুটিন মেনটেইন করার মাধ্যমেই একজন সফল ডে- ট্রেডার তৈরি হয়। সঠিক পরিকল্পনা ব্যতিত ট্রেডিং গেম্বলিং ব্যতিত আর কিছুই নয়। যেখান থেকে বাই লাক কিছু বেনিফিট হলেও এটা নির্দিষ্ট নয়।

তাহলে কি কি বেসিক টুলস প্রয়োজন একজন ডে-ট্রেডিং ব্যবসায়ীর জন্য?

১. ব্যবসায়িক পরিকল্পনাঃ- অন্যান্য ব্যাবসায়ের মতো ডে-ট্রেডিং এর জন্যও দৃঢ় পরিকল্পনা প্রয়োজন। যার মধ্যে থাকবে আপনি কোন স্ট্রেটিজি ব্যবহার করবেন, আপনার ট্রেডিং সংক্রান্ত পড়াশুনার জন্য, টেডিং ডিভাইস এবং অন্যান্য আনুসাংগিক প্রয়োজনীয় টুলস এর জন্য কতো বিনিয়োগ করবেন তা ও নির্ধারণ করা প্রয়োজন। 

এডুকেশনের এর জন্য কমপক্ষে ১ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করতে হবে প্রথম বছরেই, এর পর ক্রমান্বয়ে আরও প্রয়োজন হবে। 

২. এডুকেশন( শিক্ষা)- সঠিক শিক্ষা ও পরিকল্পনা ব্যতীত কোন ব্যবসা শুরু করা অত্যন্ত অযৌক্তিক। ডে-ট্রেডিং এমন একটি ব্যবসা যার জন্য প্রয়োজন সঠিক শিক্ষা এবং ধারাবাহিক অনুশীলন। 

এমন কেউ কি আছেন যিনি এক বা দুইটা ইঞ্জিনিয়ারিং বই পড়েই ফার্ম খুলেছেন, বা কিছু ইউটিউব ভিডিও দেখেই কোন ডক্টর এর চেম্বার খুলে বসেছেন?  নিশ্চয়ই নয়। 

ডে-ট্রেডিং ও এই প্রফেশন গুলো থেকে আলাদা কিছু নয়। তাই সঠিক শিক্ষা গ্রহণ করে কমপক্ষে তিন মাস ডেমো প্রাকটিস করার পরেই রিয়েল ডে-ট্রেডিং শুরু করা উচিত। ট্রেডিং একটি সর্বদা চ্যালেঞ্জিং প্রফেশন যেখানে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন অবস্থার উদ্ভব হয় তাই সকল সময় শিখা প্রয়োজন এবং ট্রেডিং পরিকল্পনা ভিন্ন ভিন্ন অবস্থার উপর নির্ভর করে কিছু এডজাস্ট করাও প্রয়োজন হতে পারে। 

৩. ব্যবসা শুরুর জন্য স্টার্ট-আপ ক্যাপিটাল( ক্যাশ)ঃ-

অন্যান্য সকল ব্যাবসায়ের মতই ডে-ট্রেডিং এর জন্যও আমাদের শুরুতে কিছু পুজি বিনিয়োগ করা প্রয়োজন যেমন ভালো কনফিগারেশন সহ একটি কম্পিউটার, একটি স্মার্টফোন বা ট্যাব, এবং ট্রেড এর জন্য কিছু বিনিয়োগ।

অনেক ব্যবসা,ডে-ট্রেডিং ও এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত, ব্যর্থ হওয়ার মূল কারণ হলো পুজির সংকট এবং সঠিক পুজি ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতার ফলে। ডে-ট্রেডিং থেকে আয় করতে হলে বেশ কিছুটা সময় প্রয়োজন, আপনার পর্যাপ্ত পরিমাণ ষ্টার্টাআপ ফান্ড থাকতে হবে, ট্রেডিং এ ব্রেক- ইভেন পয়েন্ট পর্যন্ত আসতে হলেও। যেখানে প্রায়শই নতুন ট্রেডারগন প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো অবজ্ঞা করে ট্রেড শুরু করেন যেমন সঠিক শিক্ষা সঠিক টুলস এবং প্লাটফর্ম যাতে করে তাদের প্রাথমিক পূঁজির বিনিয়োগ পরিমাণ কম না হয়। তারা অতি অল্প পরিমাণ পুজির বিনিয়োগে তূলনামূলকভাবে অনেক বেশী আশা করে বা করতে যায় যা তাদের নিয়ে যায় ট্রেডিং এর সবচেয়ে ক্ষতিকর অবস্থা, ইমোশনাল ট্রেডিং এর দিকে।  

পর্যাপ্ত প্রাথমিক পূঁজি, নতুন ট্রেডারদের শুরুতে যে ভূলগুলো হয় এবং তাদের দূর্বলতাগুলো খুজে বের করতে যে সময় প্রয়োজন তার জন্য সুযোগ করে যা তাদের এক ধাপ এগিয়ে রাখে। আপনি কত বিনিয়োগ করতে পারবেন তার উপর নির্ভর করে আপনি প্রতিদিন কত আয়ের গোল/লক্ষ্য নির্ধারন করবেন। যাতে করে আপনি ট্রেডিং এর মাধ্যমে আপনার প্রয়োজনীয় খরচ এর যোগাড় করবেন, আপনার লিভিং কস্ট, যখন ট্রেডারগন এর পর্যাপ্ত টাকা না থাকার পরও অনেক আশা করে, ট্রেড থেকে জীবনযাপন করবেন তারা প্রয়োজনের অধিক ঝুঁকি নিয়ে ফেলে যা দূর্ভাগ্যক্রমে তাদের একাউন্ট এবং অনেক ক্ষেত্রেই ট্রেডিং ক্যারিয়ার ধ্বংস করে। 

৪। সঠিক টুলসঃ- ১.হাই স্পিড ইন্টারনেট সংযোগ ২.সঠিক সম্ভাব্য ব্রোকার, ৩.ট্রেডারদের(সফল) কমিউনিটির সাথে যুক্ত থাকা এই সকল টুলসগুলোর জন্য অনেক সময় আপনাকে প্রতিমাসে কিছু এক্সট্রা খরচ বহন করতে হবে। যা আপনি আপনার ব্যবসায়ের প্রতিমাসের খরচ হিসেবে বিবেচনা করতে পারেন।     

একজন সফল ডে-ট্রেডার এর কিছু প্রয়োজনীয় চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য

তারা নতুন ডে-ট্রেডিং শুরু করতে চাওয়া ট্রেডারদের মতো, সবচেয়ে প্রয়োজনীয় বিষয় অবজ্ঞা না করে মার্কেট সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনে যা যা করা প্রয়োজন বই পড়া, সফল ট্রেডারদের ব্লগ পড়া, সফল ট্রেডারদের সাথে যোগাযোগ রাখা যায় এমন কমিউনিটির সাথে যুক্ত থাকা, বিভিন্ন ট্রেনিং এ অংশগ্রহণ করা এমনকি ব্যক্তিগত উন্নয়নে যে ট্রেনিংগুলো রয়েছে তাতেও তারা অংশগ্রহণ করে যা তাদের জ্ঞানভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করে। মার্কেট চার্ট পর্যবেক্ষণ এ প্রচুর সময় ব্যয় করেন যা তাদের মার্কেট সম্পর্কে অভিজ্ঞ করে তোলেন
সফল ট্রেডারগন এর মার্কেট সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতা

সফল ট্রেডারগন এর মার্কেট সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতা

 তারা নতুন ডে-ট্রেডিং শুরু করতে চাওয়া ট্রেডারদের মতো, সবচেয়ে প্রয়োজনীয় বিষয় অবজ্ঞা না করে মার্কেট সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনে যা যা করা প্রয়োজন বই পড়া, সফল ট্রেডারদের ব্লগ পড়া, সফল ট্রেডারদের সাথে যোগাযোগ রাখা যায় এমন কমিউনিটির সাথে যুক্ত থাকা, বিভিন্ন ট্রেনিং এ অংশগ্রহণ করা এমনকি ব্যক্তিগত উন্নয়নে যে ট্রেনিংগুলো রয়েছে তাতেও তারা অংশগ্রহণ করে যা তাদের জ্ঞানভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করে। মার্কেট চার্ট পর্যবেক্ষণ এ প্রচুর সময় ব্যয় করেন যা তাদের মার্কেট সম্পর্কে অভিজ্ঞ করে তোলেন।

পর্যাপ্ত পূঁজি বিনিয়োগ 

তারা এমন অর্থ বিনিয়োগ করেন যা তারা হারালেও সর্বস্ব হারিয়ে ফেলবেন এমন নয়। এটি যে তাদের শুধুমাত্র ফাইনান্সিয়াল চরম ক্ষতি থেকেই রক্ষা করে তা নয়, বরঞ্চ ট্রেড এর সাথে তাদের ইমোশন এর জড়িত হওয়াকেও নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা পালন করে, এবং তারা প্রতিটি ট্রেডকে যতটুকু প্রয়োজন সে পরিমান স্পেসও দিতে পারেন যা তাদের একাউন্টকে নিরাপদ রাখে।

স্ট্রেটিজী

তারা সঠিক পরিকল্পনা তৈরি করতে সক্ষম যেহেতু তারা মার্কেট সম্পর্কে দক্ষতা অর্জন করে তাই তারা জানে সবসময় একই পদ্ধতিতে ট্রেড করা যাবে না। তারা ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে ট্রেড করার জন্য স্ট্রেটিজি তৈরি করেন। যা তাদের ট্রেডিংকে এগিয়ে রাখে। তাদের চেয়ে যারা কোন পরিকল্পনা ছাড়াই ট্রেডিং ক্যরিয়ার শুরু করে। 

নিয়মানুবর্তিতা 

জ্ঞানের স্তর যত গভীরে হয়, মানুষের অস্থিরতার পরিমান ততই কমতে থাকে। যেখানে একজন সফল ট্রেডার মার্কেট সম্পর্কে প্রচুর জ্ঞান অর্জন করায় এবং শিখার ক্ষেত্রে কখনো না থেমে ক্রমাগতভাবে আত্নউন্নয়ন এবং ট্রেডিং স্ট্রেটিজী এর ক্রম উন্নয়ন এর ফলে তার মধ্যে স্থিরতা কাজ করে যা তাকে নিয়ম এর মধ্যে থেকে ট্রেড করার বিষয় সহজ করে এবং নিয়মানুবর্তিতার মধ্যেই তিনি জীবনযাপন এবং ট্রেড দুটোই করেন। যা তাকে সফলতায় স্থির রাখে। যিনি স্থিরভাবে সিদ্ধান্ত নিতে  সক্ষম তা সে যে কোন ক্ষেত্রেই হোক না কেন, তিনি এগিয়ে থাকেন যে কারো থেকে।  

রুল নাম্বার ০৩ঃ একজন ডে-ট্রেডার তার ট্রেড পরের দিনের জন্য হোল্ড করে রাখবেন না, প্রয়োজনে লস মেনে নিয়ে কেটে দিবেন। 

যদিও অনেকে এই বিষয়টির সাথে একমত নাও হতে পারেন, কিন্তু যদি আপনি লস হতে দেখে ট্রেড হোল্ড করেন এই আশায় যে, যদি পরবর্তী দিন প্রাইজ পক্ষে চলে আসে, তাহলেই আপনি শুইং ট্রেডার। এটি মানুষের সাধারণ অভ্যাস যতই প্লান করা থাকুক না কেন যখনই দেখি যে ট্রেডিং একাউন্ট এ লস শো করছে আমরা প্লান বদলে ফেলি আমার ও এ অভ্যাস ছিল কিন্তু এর জন্য অনেক বড় ক্ষতি মেনে নিতে হয়েছে আমার ট্রেডিং একাউন্ট এর। তাই একজন ডে-ট্রেডার হিসেবে আপনাকে অবশ্যই আপনার প্লান এ স্ট্রিক্ট থাকতে হবে। কোন ভাবেই ডে-ট্রেডিং এর লক্ষ্যে নেয়া কোন ট্রেডকে পরদিন নেয়া যাবে না প্রয়োজনে লস মেনে নিতে হলেও, এটি সাধারণ হিউম্যান ন্যচার যে আমরা প্রফিট খুব দ্রুত নিয়ে নিই কিন্তু লস এর ট্রেড আশায় অপেক্ষা করতে থাকি, যদি পাওয়েল কোন যাদু প্রদর্শন, বা কোন দেশের সরকার কোন পরিকল্পনা ঘোষণা করে ইত্যাদি উচ্চমার্গীয় বিষয়। সুতরাং ডে-ট্রেডিং এর  আরেকটি রুল হল কোন ট্রেডই কোন ভাবেই পরদিন এর জন্য রেখে দেয়া যাবে না। 

এই বিষয় জানতে আপনাকে কিছু গবেষণা করতে হবে যে কোন কারেন্সি পেয়ার/ শেয়ার এর মুবমেন্ট কি একক কোন কারনে হচ্ছে নাকি সম্পূর্ণ মার্কেট এর মুব এর সাথে প্রাইজ এর পরিবর্তন হচ্ছে। এটি জানার উপর আপনার একাউন্ট কখনো কখনো অনেক বড় ক্ষতি থেকে নিরাপদ থাকবে।  একজন ডে-ট্রেডারকে সেই কারেন্সি পেয়ার/ শেয়ার গুলো বাছাই করতে হয় যেগুলোর পর্যাপ্ত মুবমেন্ট হয় কিন্তু কারন জেনে ট্রেড না করলে ভূল হলে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনাও অধিক থাকে। তাই আরেকটি গুরুত্বপূর্ন রুলস হল প্রাইজ এর মুব এর কারন অনুসন্ধান করা।  ডে-ট্রেডিং এ সফলতায় এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন পদক্ষেপ মার্কেট এর আপডেট রাখা এর জন্য প্রয়োজনীয় নিউজ সাইটগুলোতে চোখ ভুলাতে হবে
কারেন্সি পেয়ার/ শেয়ার মার্কেট
রুল নাম্বার ০৪ঃ মার্কেট এ কারেন্সি পেয়ার/শেয়ার এর প্রাইজ মুবমেন্ট এর কারন সম্পর্কে জানুন তারপর ট্রেড নিন। 

এই বিষয় জানতে আপনাকে কিছু গবেষণা করতে হবে যে কোন কারেন্সি পেয়ার/ শেয়ার এর মুবমেন্ট কি একক কোন কারনে হচ্ছে নাকি সম্পূর্ণ মার্কেট এর মুব এর সাথে প্রাইজ এর পরিবর্তন হচ্ছে। এটি জানার উপর আপনার একাউন্ট কখনো কখনো অনেক বড় ক্ষতি থেকে নিরাপদ থাকবে।  একজন ডে-ট্রেডারকে সেই কারেন্সি পেয়ার/ শেয়ার গুলো বাছাই করতে হয় যেগুলোর পর্যাপ্ত মুবমেন্ট হয় কিন্তু কারন জেনে ট্রেড না করলে ভূল হলে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনাও অধিক থাকে। তাই আরেকটি গুরুত্বপূর্ন রুলস হল প্রাইজ এর মুব এর কারন অনুসন্ধান করা।  ডে-ট্রেডিং এ সফলতায় এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন পদক্ষেপ মার্কেট এর আপডেট রাখা এর জন্য প্রয়োজনীয় নিউজ সাইটগুলোতে চোখ ভুলাতে হবে। 

রুল নাম্বার ০৫ঃ রিস্ক রিওয়ার্ড এর অনুপাত

ডে-ট্রেডিং এ সফলতা অনেকাংশে নির্ভর করে  সঠিক রিস্ক রিওয়ার্ড রেশিও এর উপরে। যে কোন ট্রেডার যত সফল ট্রেডারই হোন বা যত সফল ট্রেডিং স্ট্রেটিজিই হোক না কেন। স্টপ লস মেনে নিতেই হবে তাই ট্রেড বাছাই এর ক্ষেত্রে অবশ্যই এমন ট্রেড নিতে হবে যার রিস্ক রিওয়ার্ড র‍্যাশিও কমপক্ষে ১ঃ২ হতে হবে বা এর চেয়ে অধিক। যাতে করে ৫০% ট্রেডও যদি স্টপ হিট করে তাও গড়ে এগিয়ে থাকা যায়। সফল ট্রেডারগন লস করে না এমন নয়  কিন্তু তারা দীর্ঘ সময়ের ট্রেডিং এ এগিয়ে থাকার কারন সঠিক রিস্ক- রিওয়ার্ড রেশিও। যদি কোন ট্রেড নিতে ইচ্ছে হয় কিন্তু রিস্ক এবং সে অনুপাতে না হয় তাহলে তা না নেয়াই উত্তম, মার্কেট কোথাও যাচ্ছে না। একাউন্ট টিকে থাকলে মার্কেট সুযোগ দিয়েছে, দিচ্ছে এবং দিবে।

রুল নাম্বার ০৬ঃ মাস্টার দ্যা রিস্ক ম্যানেজমেন্ট  

যে কোন  স্ট্রেটিজিই অনুসরন করা হোক না কেন, এমন হতেই পারে যে, কিছু মাসে আপনাকে লস মেনে নিতে হতে পারে। তাই প্রতিটি ট্রেডএ আপনি আপনার একাউন্ট ব্যালেন্স এর অনুপাতে কত স্টপ লস সেট করবেন তা ঠিক করতে হবে যদিও এর কোন সঠিক পরিমাপ নেই তবে সর্বাধিক ব্যবহৃত পদ্ধতিটি হল প্রতিটি ট্রেড এ ২% অর্থাৎ আপনার একাউন্ট  ব্যালেন্স যদি হয় ১০০০ ডলার তাহলে প্রতিটি ট্রেড এ আপনি সর্বোচ্চ ২০ ডলার লস নিতে পারবেন।আমাদের অন্য আর্টিকেলগুলতে এর বিশদ বর্ণনা থাকবে। এবং সকল রানিং ট্রেড মিলে কোন ভাবেই ১০% এর চেয়ে অধিক না হওয়া। রিস্ক ম্যানেজমেন্ট এ আপনি যতটা দক্ষতা অর্জন করবেন ততই ট্রেডিং আপনার জন্য সম্ভাবনাময় হয়ে উঠবে। 

ডে-ট্রেডার এর লাইফষ্টাইল অত্যন্ত আকর্ষণীয়, ডে-ট্রেডিং চমৎকারভাবে রপ্ত করতে পারলে, আপনি একদিনে এমনকি হাজার ডলারও আয় করতে পারেন যা অনেক অন্যান্য প্রফেশন থেকে অনেক বেশী। এমনও ট্রেডার রয়েছেন যারা ডে-ট্রেডিং  থেকে ২০০০ ডলার এর ও বেশী আয় করছেন। কখনো কখনো কম আবার কখনো কখনো অধিক কিন্তু লংটার্মে তারা ২০০০ ডলার আয় করেন। আপনি যেখানেই থাকেন এবং যেভাবেই থাকেন প্রতিদিন ২০০০ ডলার যথেষ্ট আয় হওয়ারই কথা তাই নয় কি ? আপনি একজন ডক্টর, ইঞ্জিনিয়ার বা ব্যবসায়ী যেকোন প্রফেশন এর ব্যক্তিদের লক্ষ্য করলেই বুঝবেন যে তারা দীর্ঘ  সময় পড়াশুনা করার পরই তারা সফল হয়ে যায়? নিশ্চয় নয়, আরও কিছু বছর তাকে প্রাকটিস করা প্রয়োজন হয়, তারপর থেকে আয় করা শুরু হয়। কিন্তু আমরা অনেকেই ডে-ট্রেডিংকে জুয়ার মতো করে খেলা মনে করি ” যদি লেগে যায়”। যার ফলে কোন ধরনের প্রস্তুতি ব্যতিরেকেই ট্রেডিং করে এবং এলোমেলো সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজের একাউন্ট এবং সম্ভাবনাময় ক্যারিয়ার ধ্বংসের কারন হয়। তাই এই রুলস গুলো বুঝে এবং মেনে ট্রেড শুরু করুন এবং ভালো করুন এই প্রত্যাশায়। 

1 thought on “ডে ট্রেডিং সম্পর্কে বিস্তারিত এবং শুরু করতে প্রয়োজনীয় ৬ টি নিয়ম”

  1. Pingback: beingatrader

Comments are closed.