ট্রেন্ড লাইন কি এবং কিভাবে আঁকতে হয়?

ট্রেন্ড লাইন কি এবং কিভাবে আঁকতে হয়?

প্রাইজ যখন এঁকেবেঁকে চললেও নির্দিষ্ট দিক অনুসরণ করতে থাকে, প্রাইজ এর এই অবস্থাকেই ট্রেন্ড বলা হয়। ট্রেন্ডকে সহজে বুঝতে ট্রেন্ড লাইন এর ব্যবহার করা হয়। ট্রেন্ড এর চিহ্নিতকরনে এবং নিশ্চিত হতে উভয়ের জন্যই ট্রেন্ডলাইন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ট্রেন্ডলাইন একটি সরলরেখা যা দুই বা ততোধিক প্রাইজ পয়েন্টকে যুক্ত করে এবং তা সামনের দিকে বর্ধিত থাকে যা ভবিষ্যৎ এর ডায়নামিক( গতিশীল) সাপোর্ট এবং রেসিস্টেন্স হিসেবে কাজ করে। ডায়নামিক সাপোর্ট এবং রেসিস্টেন্স এর অর্থ হলো এটি সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তন হয় তেমনিভাবে সাপোর্ট এবং রেসিস্টেন্স এর প্রাইজও পরিবর্তিত হতে থাকে। 

ট্রেন্ডলাইন এর সংজ্ঞা 

আপট্রেন্ড লাইন 

আপট্রেন্ড লাইন

যখন সময়ের সাথে সাথে প্রাইজ এ হায়ার হাই এবং হায়ার লো তৈরি হয় এই অবস্থাকেই আপট্রেন্ড বলা হয়। একটি আপট্রেন্ড লাইন হল উর্ধমূখী ঢালু রেখা, যা দুই বা ততোধিক প্রাইজ পয়েন্টকে সংযোগ এর মাধ্যমে গঠিত হয়। রেখাটি পজিটিভ ঢালু হতে গেলে অবশ্যই দ্বিতীয় লো পয়েন্টটি প্রথম লো পয়েন্ট থেকে উচুতে হতে হবে। মনে রাখতে হবে যে কোন ট্রেন্ড লাইন এর ভ্যালিডিটির জন্য কমপক্ষে তিনটি পয়েন্ট সংযুক্ত হতে হবে। 

আপ ট্রেন্ড লাইন সাপোর্ট হিসেবে ভূমিকা পালন করে এবং ইংগিত প্রদান করে যে যদিও প্রাইজ বাড়ছে কিন্তু এর সাথে নেট-ডিমান্ডও ( ডিমান্ড লেস সাপ্লাই) বৃদ্ধি পাচ্ছে। কোন কারেন্সির প্রাইজ বাড়ার সাথে সাথে চাহিদাও যদি বৃদ্ধি পায় তাহলে তা খুবই বুল্লিশ যা বায়ারদের যে শক্তিমত্তা তার বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। যতসময় পর্যন্ত প্রাইজ ট্রেন্ডলাইন এর উপরে থাকে ততসময় পর্যন্ত ট্রেন্ড এর দিক এবং শক্তিমত্তা বলবৎ থাকে। প্রাইজ যখনই আপট্রেন্ড লাইন কে ব্রেক করে নিচে চলে যায় এর অর্থ হল নেট-ডিমান্ড কমার এবং ট্রেন্ড এ সম্ভাব্য পরিবর্তন হতে পারে এর ইংগিত প্রদান করছে। 

ডাউনট্রেন্ড লাইন 

ডাউনট্রেন্ড লাইন

যখন সময়ের সাথে সাথে প্রাইজ এ লোয়ার হাই এবং লোয়ার লো তৈরি হয় এই অবস্থাকেই ডাউনট্রেন্ড বলা হয়। একটি ডাউন ট্রেন্ডলাইন হল নিম্নমুখী ঢালু রেখা, যা দুই বা ততোধিক প্রাইজ পয়েন্টকে সংযোগ এর মাধ্যমে গঠিত হয়। রেখাটি নিম্মমুখী ঢালু হতে গেলে অবশ্যই দ্বিতীয় হাই পয়েন্টটি প্রথম হাই পয়েন্ট থেকে নিচুতে হতে হবে। মনে রাখতে হবে যে কোন ট্রেন্ড লাইন এর ভ্যালিডিটির জন্য কমপক্ষে তিনটি পয়েন্ট সংযুক্ত হতে হবে। 

ডাউনট্রেন্ড লাইন রেসিস্টেন্স হিসেবে ভূমিকা পালন করে এবং ইংগিত প্রদান করে যে যদিও প্রাইজ কমছে কিন্তু এর সাথে নেট-সাপ্লাই (সাপ্লাই লেস ডিমান্ড) বৃদ্ধি পাচ্ছে। কোন কারেন্সির প্রাইজ কমার সাথে সাথে যোগান যদি বৃদ্ধি পায় তাহলে তা খুবই বেয়ারিশ যা সেলারদের যে শক্তিমত্তা তার বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। যতসময় পর্যন্ত প্রাইজ ট্রেন্ড লাইন এর নিচে থাকে ততসময় পর্যন্ত ট্রেন্ড এর দিক এবং শক্তিমত্তা বলবৎ থাকে। প্রাইজ যখনই ডাউনট্রেন্ড লাইন কে ব্রেক করে উপরে চলে যায় এর অর্থ হল নেট-সাপ্লাই কমার এবং ট্রেন্ড এ সম্ভাব্য পরিবর্তন হতে পারে এর ইংগিত প্রদান করছে। 

সঠিকভাবে ট্রেন্ডলাইন আকা

ট্রেন্ড লাইন আঁকতে দুই বা ততোধিক প্রাইজ পয়েন্ট এর প্রয়োজন হয়। যতো অধিক পয়েন্ট এর সাথে ট্রেন্ড লাইনটি যুক্ত হবে ততই তা শক্তিশালী সাপোর্ট এবং রেসিস্টেন্স হিসেবে গন্য হবে। কখনো কখনো তিন পয়েন্টকে সংযোগ স্থাপন করে এমন ট্রেন্ড লাইন আঁকা বেশ কঠিন হয়ে যায়, যদিও ট্রেন্ড লাইন টেকনিক্যাল এনালাইসিস এর অনেক গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সকল চার্টে সবসময় ট্রেন্ডলাইন আঁকা সম্ভব হয় না। কখনো কখনো লো এবং হাই পয়েন্টগুলো ম্যাচ করে না এবং এই ক্ষেত্রে কোন ভাবেই জোর করে তা আঁকা যাবে না। টেকনিক্যাল এনালাইসিস এর সাধারণ নিয়ম হল, কমপক্ষে দুটি পয়েন্ট এর সংযোগ স্থাপন এর মাধ্যমেই ট্রেন্ড লাইন আঁকতে হয়, এবং তৃতীয় পয়েন্টটি তার ভ্যালিডিটি নিশ্চিত করে।   

সারসংক্ষেপ 

যদিও ট্রেন্ডলাইন বেশ কার্যকর হতে পারে কিন্তু ভূলভাবে আঁকা ট্রেন্ডলাইন ফলস সিগনাল প্রদান করতে পারে। এর সাথে হরাইজোন্টাল সাপোর্ট রেসিস্টেন্স এবং অন্যান্য টুলস এর ব্যবহার এর মাধ্যমে ট্রেন্ডলাইন এর ব্রেক পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।