কারেন্সিতে ট্রেডিং এর মাধ্যমে কিভাবে টাকা উপার্জন করা যায়

কারেন্সিতে ট্রেডিং এর মাধ্যমে কিভাবে টাকা উপার্জন করা যায়

বিনিয়োগকারীগন ফরেক্স মার্কেট এ পৃথিবীর যে কোন দেশের কারেন্সি ট্রেড করতে পারেন। ফরেক্স এ টাকা উপার্জন নির্ভর করে এক কারেন্সির বিপরীতে অন্য কারেন্সির বিনিময়হার যখন বৃদ্ধি পায়। তাই ফরেক্স আয় করার জন্য আপনাকে এক কারেন্সির বিপরীতে অন্য কারেন্সিতে বিনিয়োগ করা প্রয়োজন হয়। অর্থাৎ আপনি যদি বিশ্বাস করেন যে কোন নির্দিষ্ট কারেন্সি যেমন জাপানিজ ইয়েন এর বিনিময় রেট, ইউএস ডলার এর তুলনায় বাড়তে পারে তাহলে আপনি ইয়েন ক্রয় করে, ডলার বিক্রি করতে পারেন। আমরা আমাদের এই আর্টিকেল এ তার বিস্তারিত আলোচনা করবো।

কারেন্সি বাই এবং সেল এর বিস্তারিত 

ফরেক্স মার্কেট এ কারেন্সি ট্রেড হয় জোড়ায় জোড়ায়, যেমন আপনি যদি কোন কারেন্সি পেয়ার এর উদৃতি দেখেন যে GBP/USD এর প্রাইজ ১.৩৮৬৪। এই উদাহরণ এ বেস(প্রথম/প্রধান) কারেন্সি হলো গ্রেট ব্রিটেন পাউন্ড, ইউএস ডলার হচ্ছে সেকেন্ড কারেন্সি বা কোট কারেন্সি। 

সকল কারেন্সি পেয়ার এ বেস কারেন্সির উপর ভিত্তি করেই নির্ধারণ করা হয় পেয়ার এর এক্সচেঞ্জ এর হার, বেস কারেন্সি ১ ইউনিট এ, সেকেন্ড কারেন্সি বা কোট কারেন্সি কতটা পাওয়া যাবে তার উপর পেয়ার এর রেট নির্ধারণ হয়। অর্থাৎ উপরের পেয়ার এর রেট হলো ১.৩৮৬৪ এর মানে হলো ১ গ্রেট ব্রিটেন পাউন্ড এর মাধ্যমে আমরা ১.৩৮৬৪ ইউএস ডলার কিনতে পারবো। একজন ট্রেডার এর প্রফিট এর জন্য, যদি বেস কারেন্সি ক্রয় করে তাহলে পেয়ার এর রেট যদি বৃদ্ধি পায় তাহলে লাভ হবে, একইভাবে যদি কোট কারেন্সি ক্রয় করে অর্থাৎ বেস কারেন্সি বিক্রয় তাহলে পেয়ার এর রেট যদি কমে তাহলে আয় হবে। এটিই ফরেক্স এর আরও একটি চমৎকার বিষয় আপনি একই পেয়ার বাই বা সেল করেও আপনি লাভবান হতে পারেন। 

বেস কারেন্সি এবং কোট কারেন্সি বিস্তারিত 

যখনই ফরেক্স এ আপনার কোন ট্রেড চলমান থাকে এর মানে হলো, আপনি এক কারেন্সির সাথে অন্য আরেকটি কারেন্সির বিনিময় করছেন। একটি কারেন্সি অন্য আরেকটি কারেন্সির বিপরীতে জোড়ায় জোড়ায় থাকে। 

নিম্নে একটি পেয়ার এর উদাহরণ দেয়া হলো ইয়োরো ভার্সাস ইউএস ডলার 

EUR/USD = 1.1880 [ base currency ] Quote Currency 

বেস কারেন্সি এবং কাউন্টার কারেন্সি
ইয়োরোডলার

দুটি কারেন্সির পেয়ার এ বেস কারেন্সি হলো “/” এর পূর্বের কারেন্সি, এই উদাহরনে হল ইয়োরো। 

বেস কারেন্সিই হলো দুই কারেন্সির জোড় এর বিনিময় হার এর রেফারেন্স উপাদান। যার মূল্য সকল সময় ১ একক৷ 

দুটি কারেন্সির পেয়ার এ বিপরীত কারেন্সি বা কোট/ উদ্বৃত কারেন্সি হলো “/” এর পরের কারেন্সি। এই উদাহরণ এ ইউএস ডলার। যখন আপনি ক্রয় করবেন, তখন কারেন্সি পেয়ার এর এক্সচেঞ্জ রেট আপনাকে বলবে যে বেস কারেন্সির ১ ইউনিট ক্রয় করতে বিপরিত/কোট কারেন্সির কত ইউনিট লাগবে। উপরের উদাহরণ এ আপনাকে ১.১৮৮০ ইউএস ডলার দিয়ে ইয়োরোর ১ ইউনিট ক্রয় করতে হবে। 

বিক্র‍য়ের সময়, এক্সচেঞ্জ রেট আপনাকে বলবে বেস কারেন্সির ১ ইউনিট এর বিনিময়ে আপনি বিপরিত/কোট কারেন্সি কত ইউনিট পাবেন। উপরের উদাহরণ এ ইয়োরোর ১ ইউনিট এর বিনিময়ে আপনি, ১.১৮৮০ ইউএস ডলার পাবেন। 

আপনি যদি GBP/USD ক্রয় করেন তার মানে হলো আপনি মূলত বেস কারেন্সি ক্রয় করেছেন এবং একই সময়ে বিপরীত/কোট কারেন্সি বিক্রয় করেছেন। 

ট্রেডারদের ভাষায় বাই গ্রেট ব্রিটিশ পাউন্ড,  “সেল ইউএস ডলার”

• যদি আপনার মনে হয় যে ইউএস ডলার এর তুলনায় পাউন্ড এর প্রাইজ বাড়বে,  তাহলে আপনি GBP/USD ক্রয় করবেন এবং এর প্রাইজ বাড়লে আপনার আয় হবে।

উদাহরণ, 

আপনি ১০০০০ পাউন্ড ক্রয় করলেন ১.৩৮০০ রেট এ, আপনার খরচ হলো ১৩৮০০ ডলার 

দুই সপ্তাহ পর সেই ১০,০০০ পাউন্ড বিক্রয় করলেন ১.৪৫০০ রেট এ, বিক্রি করে আপনি পেলেন ১৪৫০০ ডলার। 

তাহলে আপনার প্রফিট হলো +৭০০ ডলার।  এভাবেই আপনি ফরেক্স ক্রয় করে আয় করতে পারেন। 

• একইভাবে একই পেয়ারএ আপনি সেল করেও প্রফিট করতে পারেন, যেমন যদি আপনি মনে করেন পাউন্ড এর তুলনায় ইউএস ডলার এর এক্সচেঞ্জ রেট বৃদ্ধি পাবে তাহলে একই পেয়ার বিক্রয়ও করতে পারেন। 

উদাহরণ, 

আপনি ১০০০০ ইউএস ডলার ক্রয় করলেন ১.৩৮০০ রেট এ, আপনার খরচ হলো ১৩৮০০ ডলার 

দুই সপ্তাহ পর পাউন্ড এবং ডলার এর পেয়ার এর এক্সচেঞ্জ রেট কমে হলো ১.৩৩০০ সেই ১০,০০০ ইউএস ডলার বিক্রয় করলেন ১.৩৩০০ রেট এ, বিক্রি করে আপনি পাবেন ১৪৩০০ ডলার। 

তাহলে আপনার প্রফিট হবে +৫০০ ডলার।  এভাবেই আপনি ফরেক্স বিক্রয় করে আয় করতে পারেন। 

আমাদের আর্টিকেল এ আমরা কারেন্সি পেয়ার এর ক্ষেত্রে “/” এর ব্যবহার করেছি। কিন্তু জেনে রাখা প্রয়োজন যে কখনো কখনো এই স্লাশ নাও থাকতে পারে এর বদলে ড্যাশ “-” বা কিছুই নাও ব্যবহার হতে পারে কিন্তু এতে এর কোনই পরিবর্তন হয় না। 

উদাহরণ সরূপ, কেউ কেউ লিখতে পারেন USD/CHF, আবার কেউ কেউ USD-CHF,  বা USDCHF যেভাবেই লিখা হোক না কেন এতে মান বা অর্থ কোনটাই পরিবর্তন হয় না। 

লং এবং শর্ট 

প্রথমে আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে আপনি কি বাই করবেন নাকি সেল। আপনি যদি বাই করেন যার প্রকৃত মানে হলো আপনি বেস কারেন্সি কিনছেন এবং একইসাথে বিপরীত কারেন্সি বিক্রয় করছেন, এখন যদি পেয়ার এর এক্সচেঞ্জ রেট বৃদ্ধি পায় তাহলে আপনি যখন বিক্রয় করে দিবেন আপনি প্রফিট করবেন।

ট্রেডারদের ভাষায় এটি হচ্ছে “গোয়িং লং” বা ” লং পজিশন” নেয়া। 

মনে রাখার জন্যঃ লং= বাই। 

আপনি যদি কোন পেয়ার সেল করতে চান যার মানে হলো আপনি বিপরীত কারেন্সি ক্রয় করছেন এবং বেস কারেন্সি বিক্রয় করেছেন, যাতে করে কারেন্সি পেয়ার এর এক্সচেঞ্জ রেট কমলে আপনি প্রফিট করবেন।

এটি হলো “গোয়িং শর্ট” বা ” শর্ট পজিশন” নেয়া। মনে রাখা জন্যঃ শর্ট= সেল।

বিড, আস্ক, এবং স্প্রেড

যে কোন ফরেক্স পেয়ার উল্লেখ্য করা হয় দুইটি প্রাইজ মাধ্যমেঃ বিড এবং আস্ক 

সাধারণত বিড প্রাইজ আস্ক প্রাইজ এর চেয়ে কম হয়। 

বিড প্রাইজ 

বিড প্রাইজ হলো যে প্রাইজ এ ব্রোকার, বিপরীত/ কোট কারেন্সির বিনিময়ে বেস কারেন্সি কিনতে আগ্রহী। যার মানে হলো বিড প্রাইজ হল কোন ট্রেডার এর জন্য, মার্কেট এ সেল করার সর্বোত্তম প্রাইজ। আপনি যদি কোন কারেন্সি বিক্রি করতে চান তাহলে ব্রোকার আপনার কাছ থেকে বিড প্রাইজ এ কিনে নিবে। 

আস্ক প্রাইজ 

আস্ক প্রাইজ হল যে প্রাইজ এ আপনার ব্রোকার কোট কারেন্সির বিনিময়ে বেস কারেন্সি বিক্রয় করতে আগ্রহী। আস্ক প্রাইজ হল মার্কেট থেকে কোন কারেন্সি ক্রয় করার জন্য সর্বোত্তম প্রাইজ। আস্ক প্রাইজ কে অফার প্রাইজও বলা হয়। আপনি যদি কোন কারেন্সি ক্রয় করতে আগ্রহী হন তাহলে ব্রোকার আপনার কাছে তা বিক্রয় করবে আস্ক প্রাইজ এ। 

স্প্রেড কি? 

বিড প্রাইজ এবং আস্ক প্রাইজ এর মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে তাই হল স্প্রেড। 

উপরে পাউন্ড এবং ডলার এর উল্লিখিত এক্সচেঞ্জ প্রাইজ এ বিড প্রাইজ হল ১.৩৮৬৪ এবং আস্ক প্রাইজ ১.৩৮৬৬। 

• আপনি যদি পাউন্ড সেল করতে আগ্রহী হন তাহলে আপনি শুধুমাত্র সেল লিখায় ক্লিক করলেই ১.৩৮৬৪ রেট এ আপনি পাউন্ড সেল হয়ে যাবে। 

• একইভাবে পাউন্ড ক্রয় করতে চাইলে আপনি বাই তে ক্লিক করলেই ১.৩৮৬৬ রেট এ পাউন্ড কেনা হয়ে যাবে। 

নিম্নের চিত্রে আমারা এই আর্টিকেল এ যা যা আলোচনা করা হয়েছে তার উপর আলোকপাত করা হয়েছে।