অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

একেবারে সহজে বলতে গেলে, একটি দেশের ( কয়েকটি দেশের একটি গ্রুপ) সকলধরনের আর্থিক ব্যবস্থা তদারকি করার সমস্ত দ্বায়িত্ব কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর। তবে আর্থিক ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংক এর আরও কিছু গুরু দ্বায়িত্ব রয়েছে যেমন মুদ্রা স্থিতিশীলতা, স্বল্প মূল্যস্ফীতি এবং সম্পূর্ণ কর্মসংস্থান এই লক্ষ্য গুলো বাস্তবায়ন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সাধারণত অর্থ ইস্যু করে, দেশের সরকারের ব্যংক হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করে, ক্রেডিট সিস্টেম নিয়ন্ত্রণ করে,বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে তদারকি করা, এক্সচেঞ্জ রিজার্ভ পরিচালনা করা, বিশেষ ক্ষেত্রে লোনদাতা হিসেবেও ভূমিকা পালন করে থাকে। 

বর্তমান সময়ে ৮টি প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকঃ

০১. ইউএস ফেডারেল রিজার্ভ ব্যংক (ইউএসডলার)

০২. ইয়োরোপীয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংক (ইউরো)

০৩. ব্যাংক অব ইংল্যান্ড (গ্রেটব্রিটিশপাউন্ড)

০৪. ব্যাংক অব জাপান (জাপানীজ ইয়েন)

০৫. সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক ( সুইস ফ্রান্ক)

০৬. ব্যাংক অব কানাডা ( কানাডিয়ান ডলার) 

০৭. রিসার্ভ ব্যাংক অব অস্ট্রেলিয়া ( অস্ট্রেলিয়ান ডলার)

০৮. রিজার্ভ ব্যংক অব নিউজিল্যান্ড ( নিউজিল্যান্ড ডলার) 

কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং ইন্টারেস্ট রেট

কর্মসংস্থান এবং প্রাইজ এর স্থিতিশীলতা বজায় রাখা বেশ জটিল একটি প্রক্রিয়া, যেগুলো নিয়ন্ত্রণ এর জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক এর প্রধান প্রক্রিয়া হল সুদের হার এর নিয়ন্ত্রন। ইন্টারেস্ট রেট বিনিয়োগের প্রবাহের প্রাথমিক প্রভাবক। 

ইন্টারেস্ট রেট এর বৃদ্ধি বা কমানোর কি কারণ এবং এর সাথে সাথে অর্থনীতির উপর তার প্রভাবের কারণ কিছুটা লক্ষ্য করলেই বুঝা যায়। এমন একটি অর্থনৈতিক সময়ের কথা বিবেচনা করুন যখন কোন ব্যাংক অর্থনীতির বিষয়ে উদিগ্ন থাকে এবং লোন এর অর্থ ফিরিয়ে পাওয়ার বিষয়ে দ্বিধায় পড়ে যায়। 

ইন্টারেস্ট রেট কমানো বাড়ানোর কারন

যদি ইন্টারেস্ট রেট হাই হয় তাহলে নিরাপদ হচ্ছে অর্থ রেখে দেয়া, এবং কেবলমাত্র তাদেরই লোন দেয়া যারা নিশ্চিতভাবে এই উঁচু ইন্টারেস্ট রেটও লোন শোধ করবে। এই ধরনের অবস্থায় ছোট ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে লোন নেয়া কঠিন হয়ে যায় কারন তাদের লোন নেয়ার কোন ধরনের ক্রেডিট রেকর্ড না থাকায়। যেহেতু ইন্টারেস্ট রেট হাই তাই উচ্চতর ব্যয়ে অনেক ব্যবসায়ীগন লোন নেয়া থেকে বিরত থাকেন। যারা বাড়ি কিনতে আগ্রহী তাদের অবস্থাও প্রায় একই। 

কিন্তু যদি এই একই অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে ইন্টারেস্ট রেট লো হতো তাহলে ব্যাংক টাকা সংরক্ষিত না রেখে কিছুটা ঝুঁকি নিয়ে হলেও নতুন ব্যাবসায়ীদের লোন দিতেন, যেহেতু তারা চাইলেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে খুবই স্বল্প হারে অর্থ ধার করতে পারে। যার মানে হল যারা বাড়ি কিনতে চায় তাদের ক্ষেত্রেও ইন্টারেস্ট রেট কম পড়বে। 

নতুন ব্যাবসায়ীগন যখন তাদের ব্যাবসায়ীক প্রবৃদ্ধির জন্য অর্থ লোন নেয় এবং যখন ব্যাক্তিগতভাবে যারা বাড়ি কিনেন এই দুইটি ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির দুটি গুরুত্বপূর্ণ চাবি তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সাধারণত এই ইভেন্ট’স গুলোতে উৎসাহ দেয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু কখনো কখনো এমন সময়ও হয় যখন এই ইভেন্ট’স গুলো সামান্য নিয়ন্ত্রণের বাহিরে চলে যায় এবং অধিক ঝুঁকি নেয়া হয়ে যায়, যা খুবই গুরুতর অর্থনৈতিক মন্দার দিকে পরিচালিত করতে পারে। 

কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো ব্যবসায়ীক এবং ব্যাক্তিগত চাহিদা নিয়ন্ত্রণের করেন ইন্টারেস্ট রেট ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে। 

ইন্টারেস্ট রেট কিভাবে একজন ট্রেডারকে প্রভাবিত করে

কেন্দ্রীয় ব্যাংক এর রেট এর হারের এই পরিবর্তন ট্রেডারদেরও প্রভাবিত করে। যখন ফরেক্স লেনদেনএ এক কারেন্সির বিপরীতে অন্য একটি কারেন্সি ক্রয় করা হয়, তখন একজন ট্রেডার মূলত তার কাছে থাকা ট্রেডিং ফান্ড হিসেবে কাউন্টার কারেন্সির বিনিময়ে বেস কারেন্সির মালিকানা গ্রহণ করেন। উদাহরণসরূপ একজন ট্রেডার যখন EUR/USD পেয়ার এ বাই ট্রেড প্লেস করে তাহলে তিনি মূলত ইউএসডলার ধার নিচ্ছেন যাতে করে ইউরো ক্রয় করা যায়। তিনি যখন কোন কারেন্সি ধার নিচ্ছেন তাহলে তাকে সেই কারেন্সির লোন এর যে রেট তা প্রদান করতে হবে সেই ফান্ড পাওয়ার জন্য, অপরদিকে, তিনি যে কারেন্সি ক্রয় করছেন তার জন্য তিনি ইন্টারেস্ট পাবেন। যদি ইউএস ডলার এর ইন্টারেস্ট রেট হয় .২০% এবং ইউরোর ইন্টারেস্ট রেট হয় ২.০% তাহলে তিনি লেনদেন এর জন্য যে পরিমান অর্থ পরিশোধ করছেন তার অধিক ইন্টারেস্ট অর্জন করছেন। ( এখন অনেক ব্রোকারএ মুসলিমদের জন্য ইসলামিক একাউন্ট অফার করেন যাতে করে কোন ধরনের ইন্টারেস্ট আপনি পাবেনও না আবার দিতেও হবে না) 

অনেক বিনিয়োগকারীগন লম্বা সময়ের জন্য যে কারেন্সির ইন্টারেস্ট রেট কম সে কারেন্সি ধার নেন ওই কারেন্সি ক্রয় এর জন্য যার ইন্টারেস্ট অধিক, এই ট্রেডিং স্ট্রেটিজিকে বলা হয় “ক্যারি ট্রেড”। যদিও ক্যারি ট্রেড লাভজনক হতে পারে তবে শুধুমাত্র ইন্টারেস্ট রেট এর কথা চিন্তা করে ট্রেড করলে সে পরিমান হবে খুবই সামান্য। প্রতিদিন কারেন্সির এক্সচেঞ্জ রেট এর যে উঠানামা হয় তার প্রফিট এর তুলনায় ইন্টারেস্ট রেট এর প্রফিট অতি নগন্য। 

হকিশ 

কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর এমন একটি টার্ম, যখন ব্যাংক ইন্টারেস্ট রেট এর বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা করা হয় বা মূলতই বাড়ানো হয় তখনই এই অবস্থানকে হকিশ বলা হয়। 

ডোবিশ 

কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর এমন একটি টার্ম, যখন ব্যাংক ইন্টারেস্ট রেট কমানোর বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন বা মূলতই কমিয়ে নেন তখনই এই অবস্থানকে ডোবিশ বলা হয়। 

কোয়ান্টেটিভ ইজিং 

এটি ইন্টারেস্ট রেট কমানোর এমন একটি পদ্ধতি যেখানে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার কিছু হোল্ডিংস ক্যাশ করে এবং বন্ড ক্রয় করে, অধিকাংশ সময়ই এই বন্ডগুলো দীর্ঘ সময়ের জন্য। দীর্ঘ সময়ের বন্ড মার্কেটএ প্রবেশের মাধ্যমে তারা সেই বন্ড এর চাহিদা বাড়িয়ে দেন এবং  সেগুলোর উপর অর্জিত ইন্টারেস্ট কমিয়ে দেয়। এই ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্য হল যাতে করে লোন এর পরিমানকে আরও উৎসাহিত করা যায়।